× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী, কিনছে চীনা ‘জে-১০সিই’ যুদ্ধবিমান

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে ঘিরে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ—বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি চীনের কাছ থেকে আধুনিক জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ২০ থেকে ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে ঢাকা। এ নিয়ে চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত এই প্রতিরক্ষা প্যাকেজে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে লজিস্টিক সহায়তা, পাইলট ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সম্ভাব্য চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

জে-১০সিই : আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতার নতুন সংযোজন

চীনের চেংডু জে-১০সিই একটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এটি আধুনিক এইএসএ রাডার, উন্নত নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে প্রায় ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মধ্যে তিস্তা নদীর বাঁধ প্রকল্প নিয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন অন্যতম।

এ ছাড়া মংলায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ১১০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ওই এলাকায় ভারতীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও চুক্তি বাতিলের পর চীনা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামে একটি বিশেষ চীনা শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—চীনা উৎপাদন শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরের মাধ্যমে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন হিসাব

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ ভারতসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর নজরে রয়েছে। বিশেষ করে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চীনের প্রতিরক্ষা উপস্থিতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগের প্রধান পথ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির পথে ঢাকা

কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে একযোগে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিআরআইসিএস সদস্যপদ নিয়েও রাশিয়া ও চীনের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

Link copied!