ভেনেজুয়েলায় অপারেশন ‘অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্ক নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সম্মেলনে এ অপারেশনের খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ ড্যান কেইন।
সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল এই মার্কিন অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল কয়েক মাস ধরে এবং এতে ছিল বিস্তারিত মহড়া। আর্মি ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর গোপন আস্তানার একটি হুবহু রেপ্লিকা তৈরি করে সেখানে কীভাবে তারা এই সুদৃঢ় দুর্গে প্রবেশ করবে, তার অনুশীলন করেছিল।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত আগস্ট থেকে কারাকাসে একটি ছোট দল মোতায়েন করেছিল, যারা মাদুরোর জীবনযাত্রার ধরন সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হয়। যার ফলে তার ধরা সহজ হয়ে যায়। গোয়েন্দা সংস্থাটির মাদুরোর খুব কাছের একজন সহযোগী বা ‘অ্যাসেট’ ছিল, যে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত এবং অভিযান চলাকালীন তার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য প্রস্তুত ছিল।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাম্প চার দিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা পরিকল্পনাকারীরা তাকে ভালো আবহাওয়া এবং মেঘমুক্ত আকাশের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।
অভিযানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী, ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং এক ডজনের বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে বিশাল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছিল। সব মিলিয়ে ১৫ হাজারের বেশি সৈন্য এ অঞ্চলে অবস্থান করছিল, যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা এতদিন মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন।
কেইন জানান, অভিযানে পশ্চিম গোলার্ধের ২০টি ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ করা এফ-৩৫, এফ-২২ জেট এবং বি-১ বোম্বারসহ ১৫০টির বেশি বিমান জড়িত ছিল। ফক্স নিউজ চ্যানেলের ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের একটি করে যুদ্ধবিমান ছিল।’
সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, পেন্টাগন নিঃশব্দে এই অঞ্চলে রিফুয়েলিং এয়ার ট্যাঙ্কার, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ে বিশেষায়িত বিমানও মোতায়েন করেছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বিমান হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত করা হয়েছে। কারাকাসের লা কার্লোতা বিমানঘাঁটিতে রয়টার্সের তোলা ছবিতে একটি ভেনেজুয়েলান বিমানবিধ্বংসী ইউনিটের পুড়ে যাওয়া সামরিক যান দেখা গেছে।
কেইন বলেন, শনিবার রাত ১টার দিকে (পূর্বাঞ্চলীয় মান সময়) সৈন্যরা কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে মাদুরোর কম্পাউন্ডে পৌঁছালে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি উড়তে সক্ষম ছিল। কারাকাসে বাসিন্দাদের পোস্ট করা সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে শহরের ওপর ও নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের বহর দেখা গেছে।
মাদুরোর গোপন আস্তানায় পৌঁছানোর পর সেনারা এফবিআই এজেন্টদের সঙ্গে নিয়ে বাসভবনটিতে প্রবেশ করে, যাকে ট্রাম্প ’অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং এমন সব জায়গায় ঢুকেছে, যেগুলোতে ঢোকা আসলে সম্ভব ছিল না, যেমন—স্টিলের দরজা, যা এ কারণেই সেখানে বসানো হয়েছিল। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়।’



