ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গোপনে অভিবাসীদের আফ্রিকায় পাচার করছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে রহস্যজনকভাবে আফ্রিকান দেশ ক্যামেরুনে অভিবাসীদের পাচারের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি আটজন অভিবাসীকে গোপন অভিযানের মাধ্যমে ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে পাচার করা হয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতেও একই প্রক্রিয়ায় নয়জনকে সেখানে পাঠানো হয়। 

চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, এই অভিবাসীদের কারোরই ক্যামেরুনের নাগরিকত্ব নেই এবং তাদের ওই দেশের সঙ্গে কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কও নেই। এমনকি তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন আদালত আগেই সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিবাসীদের গন্তব্য সম্পর্কে কোনো পূর্ব আভাস দেওয়া হয়নি। লুইসিয়ানা থেকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি বিমানে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে তোলার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা জানতেন না যে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই বহিষ্কার প্রক্রিয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্যামেরুন সরকারের কোনো প্রকাশ্য চুক্তির কথা জানা যায়নি এবং ইয়াউন্দে কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নীরব ভূমিকা পালন করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের বিতর্কিত সমঝোতা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এসওয়াতিনি, নিরক্ষীয় গিনি এবং রুয়ান্ডার মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করে তৃতীয় দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে। 

গত নভেম্বর মাসে এসওয়াতিনি নিশ্চিত করেছে, অভিবাসীদের গ্রহণ করার বিনিময়ে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ৫১ লাখ ডলার পেয়েছে। একইভাবে ঘানা, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অভিবাসী স্থানান্তরের এসব গোপন চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় চার কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। কংগ্রেস বা জনসমক্ষে কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই অত্যন্ত অস্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তিগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। 

এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আফ্রিকাকে যেন নির্বাসিতদের ভাগাড়ে পরিণত না করা হয়। একইসঙ্গে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার কর্মীরাও ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সূত্র : আরটি