ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হাওজ রানি এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার সকালে ‘ফ্লুরিশ স্টে’ নামের হোটেলটির বেজমেন্টে থাকা একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের আরেকটি হোটেলেও ছড়িয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটি মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেলেও সেখানে অবৈধভাবে ২৫টি কক্ষ চালু রাখা হয়েছিল। এছাড়া বেজমেন্টেও নিয়মবহির্ভূতভাবে কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। ফলে আগুন লাগার পর অধিকাংশ অতিথি দ্রুত বের হতে পারেননি। অগ্নিকা-ের সময় হোটেলটিতে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা বিদেশি নাগরিক ছিলেন।
দমকল বাহিনী জানায়, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে একাধিক অগ্নিনির্বাপক ইউনিট মোতায়েন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হোটেলের এক কর্মচারী জানান, বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার সময় হঠাৎ আগুন লাগে এবং মুহূর্তেই তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন অতিথি ভবন থেকে নিচে লাফ দিচ্ছেন। ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি প্রশাসন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন