× UCB Sticker Card
শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

আমার জীবনটা খোলা বই বানাতে চাই না

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

আমার জীবনটা খোলা বই বানাতে চাই না

তিনি যা ভাবেন, তা অনায়াসেই মুখে বলতে পারেন। পর্দায় মিষ্টি ও চঞ্চল হলেও বাস্তব জীবনে বরাবরই স্পষ্টবক্তা টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। তাকে চলচ্চিত্র, সিরিজ ও ধারাবাহিকÑ তিন মাধ্যমেই দেখতে অভ্যস্ত দর্শক। অভিনয়ের জাদুতে সে জয় করেছেন দুই বাংলার দর্শক হৃদয়। বড় পর্দার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে হাতেখড়ি হলেও ছোট পর্দার মাধ্যমেই টালিপাড়ায় জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। স্টার জলসার নতুন চলতি মেগা ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ধারাবাহিকে নামভূমিকায় মাতিয়ে রাখছেন দর্শকদের। কাজ ও সমসাময়িক প্রসঙ্গে কাঁটাতারের ওপার থেকে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বস্তিকা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুহুল আমিন ভূঁইয়া

ব্যস্ততা কী নিয়ে?
‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ ধারাবাহিকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। এই মুহূর্তে এটি কলকাতায় অন্যরকম জনপ্রিয় একটি নাটক। একজন প্রফেসরকে ঘিরে এর গল্প। স্টার জলসায় প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রচার হচ্ছে। এই ধারাবাহিক দিয়ে দর্শকদের থেকে প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছি। ব্লুজ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়েছে। এরই মধ্যে নাটকটি দুই’শ পর্ব ছুঁইছুঁই। এই ধারাবাহিকে আমি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করছি যেটা ক্যারিয়ারে কখনো কল্পনাও করিনি যে করতে পারব। বায়োলজি প্রফেসরের ভূমিকায় অভিনয় করছি। এখন আমার দিন কাটছে বিদ্যা ব্যানার্জি হয়ে।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আমি কখনো নিজের কাজ নিজের মুখে বলতে পছন্দ করি না। ভালো হলে দর্শক বলবেন। এটুকু বলতে পারি দর্শক প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জিকে এখন চিনেন। রাস্তায় বের হলে খুব সহজেই চরিত্রের নাম ধরে ডাকেন। এটা ভীষণ ভালোলাগার। যখন একটি চরিত্র দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেয় তখন শিল্পী জীবন পরিপূর্ণ হয়। বিদ্যা ব্যানার্জিকে দর্শক প্রচ- ভালোবেসেছেন। আমি মনে করি এমন একটি চরিত্র আমাদের সমাজে বাস্তবে থাকা ভীষণ দরকার। দীর্ঘ আড়াই বছরের বিরতি পেরিয়ে আমি ধারাবাহিকে ফিরেছিলাম। কিন্তু ব্লুজ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং স্টার জলসায় ফিরেছি দীর্ঘ আট বছর পর। ফিরেই অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

প্রথমবার অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের প্রথমবার ফাইট সিকোয়েন্স করেছি। কয়েকটি সিনেমা করেছি, এটি আমার আট নম্বর ধারাবাহিক কিন্তু কখনো ফাইট সিকোয়েন্স করতে হয়নি। আমি যে ফাইট করতে পারি তা কোনোদিন বিশ্বাস করিনি। কিন্তু সেটি এই ধারাবাহিকের লেখক করিয়েছেন। অ্যাকশন করে উপভোগ করেছি। এর পুরো কৃতিত্ব টিম ও আমার সাহসকে।

সাধারণত ত্বকের দাগ বা ব্রণ মেকআপের সাহায্যে ঢেকে তবেই ক্যামেরায় ধরা দেন নায়িকারা। সেখানে স্বস্তিকা কি ব্যতিক্রম?
ছোটবেলা থেকেই আমার চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে সম্পর্ক। আমি একটা জিনিস মনে করিÑ দর্শকদের আমরা যা উপহার দেব দর্শক তা-ই দেখবেন। আমার যেমন পিসিওএস (হরমোনাল সমস্যা) রয়েছে। আমার আরও কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। যা শুধুই আমার কাছের মানুষেরা জানেন। আর তা ছাড়া কোনো হাসপাতালের দৃশ্যে অভিনয় করলে, সেখানে যদি চড়া মেকআপ নিয়ে অভিনয় করি, তা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। তাই কখনো গালের ব্রণ বা দাগ মেকআপের সাহায্যে ঢাকি না।

আপনি মেকআপে বিশ্বাসী না?
আমি জীবনে কোনো কিছুতে বেশি প্রলেপ মাখতে পছন্দ করি না। আমি ভীষণ আনফিল্টার মানুষ। সাদামাটা চলতে পছন্দ করি। এ কারণে অনেক কটাক্ষ শুনতে হয়েছে, হচ্ছে। তবে শরীর তো কারো কথা শুনে না। নিজের মতো করে চলে। সেই সিস্টেমে যদি আমি প্রলেপ মাখি তাহলে জিনিসটা আরও বেশি খারাপ হবে। নায়িকাদেরও ব্রণ হতে পারে, এটা সবাইকে বুঝতে হবে। অনুরাগীদেরও বুঝতে হবে, নায়িকারা সাধারণ মানুষ। তবে এভাবে দর্শক আমাকে অপছন্দ করেনি। বলা যায়, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। আমি মনে করি মেকআপ, কাজল কিংবা রূপচর্চার চেয়ে চরিত্রে সঙ্গে মিশে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো চরিত্র ও পারফরমেন্স হলে দর্শক তা দেখবেনই। আজও মানুষ নিখুঁত ও প্রাণবন্ত অভিনয়ের পোকা।

কটাক্ষ কীভাবে দেখেন?
আমি খুব একটা বোল্ড শুট করি না। ব্যক্তিগত জীবনে খুব কমফোর্টেবল মানুষ। ভীষণ চাপা পোশাক পরতে পছন্দ করি না। চরিত্রের প্রয়োজনে পরতে হলে সেটি আলাদা ব্যাপার। কখনো সামাজিক মাধ্যমে এমন ছবি প্রকাশ করি না যেটা কটাক্ষ করার মতো। আমি খুব হিসাব করে চলি। তা ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নানা মানুষের নানা মন্তব্য। তাদের মন্তব্য নিয়ে আমার জীবন চলবে না। দিনশেষে আমরা সবাই মন্তব্য দেখি। কম-বেশি খারাপ সবারই লাগে। তবে এগুলো নিয়ে কখনো বেশি সময় মন খারাপ করে থাকি না। এই খারাপ লাগাটা ক্ষণিকের।

কটাক্ষ কাজে প্রভাব ফেলে?
না। জরুরি ছাড়া আমি শুটিংয়ে কখনো খুব একটা ফোন ব্যবহার করি না। বাসায় ফিরে সামাজিক মাধ্যম দেখি। সিন চলাকালীন চরিত্রে ডুবে থাকি। মোটকথা শুটিংয়ে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকি। যখন পুরোপুরি চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসি তখন ফোন ধরি। একটা কাজ হাতে নিয়ে কখনো আমি আরও ১৪টি দিকে মন দিতে পারি না এবং করিও না। যখন যেটা করব সেটা নিয়েই থাকতে পছন্দ করি। 

বাংলাদেশে ধারাবাহিক নিয়ে একসময় অভিযোগ ছিল ধারাবাহিকতা না থাকার। টালিউডে সেই ধারা ঠিক আছে?
বর্তমানে যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি তারা এর আগে একটা বারো শো পর্বের ধারাবাহিক বানিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের দর্শক এখনো দীর্ঘ ধারাবাহিক দেখতে পছন্দ করেন। এমনটা এখনো আমাদের দেশে হয়নি। অবশ্যই ধারাবাহিকের রাজা হচ্ছে কনটেন্ট। ভালো গল্প হলে দর্শক সেটি দেখবেই, তা যত পর্বই হোক না কেন। ভালো গল্পের ক্ষমতা হচ্ছে দর্শক ধরে রাখা।

ধারাবাহিকে আর্থিক নিশ্চয়তা থাকে, এর সঙ্গে সহমত?
হ্যাঁ, একদমই তাই। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। চরিত্র প্রথম প্রায়োরিটি তারপর মাসের শেষে টাকা পাওয়াটা প্রয়োজন। কারণ টাকা ছাড়া তো জীবনে চলা সম্ভব নয়। পরিবারের স্বার্থে, নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে, জিমে যেতে, ভালো খাওয়া-দাওয়া করতে সর্ব ক্ষেত্রেই টাকা প্রয়োজন। ধারাবাহিক করছি বলে টাকা পাচ্ছি, টাকার জন্য ধারাবাহিক করছি এমনটা কিন্তু নয়।

আপনার শুরুটা হয়েছিল মডেলং দিয়ে এরপর সিনেমায়। বর্তমানে ছোট পর্দাতেই বেশি দেখা যায়। বড় পর্দায় কবে পাওয়া যাবে?
চলতি বছরের শুরুর দিকে সর্বশেষ আমার অভিনীত ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল। সত্যি কথা বলতে একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ আমি করতে পারি না। যেহেতু একটি বড় চরিত্রের জন্য আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে সেখানে আমার দায়বদ্ধতা আছে। করার জন্য কাজ কখনো করিনি এবং আগামী দিনেও করতে চাই না। যখন যে কাজটি করি মন দিয়ে করি। এই ধারাবাহিক শেষ হলে নতুন কাজে মন দেব। কাজের প্রস্তাব পাই না বললে ভুল হবে। সে দিনও নতুন সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি। তবে সেটি বিনয়ের সঙ্গে না বলতে হয়েছে। কারণ, চলমান কাজে চাপ ফেলতে চাই না। ঝামেলা মুক্তভাবে আমার চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলা দায়িত্ব, সেটিই করছি। একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে গেলে একটিও ভালো হবে না। তাদে বরং দর্শক হারাবে। যে কারণে এই মুহূর্তে অন্য কাজ হাতে নেইনি। যেহেতু বড় একটি ধারাবাহিকের লিড চরিত্রে অভিনয় করছি তাই চাইলেও এখন অন্য ধারাবাহিক নিতে পারব না। আপাতত ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ নিয়েই থাকতে চাই। এখন বিদ্যা ব্যানার্জি বড় করে তোলা। এমন একটি চরিত্র করে তোলা যেটি কোথাও গিয়ে টেলিভিশনের ইতিহাসে লেখা থাকবে।

এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই মুহূর্তে অন্যরকম মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। সেটা কি রকম?
আসলে আমার অসুখটা হচ্ছে নিজের চেয়ে পৃথিবীর সব জিনিস একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলি। বহু বছর ধরে থেরাপি নিচ্ছি। এ নিয়ে কখনো সেভাবে কথা বলিনি। আমি জীবনটাকে অনেক বিস্তারভাবে দেখি বলে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এটা একটি মিষ্টি রোগ। শুধু নিজেকে একটু সাহসী রাখতে হয়। মানসিক ওঠাপাড়া ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করছি। অনেক রকম মানসিক ওঠাপড়া পেরিয়ে এসেছি।

চরিত্র বিশ্বাসযোগ্য করতে কি রকম প্রস্তুতি থাকে?
চরিত্র হয়ে উঠতে হয়। সেই চরিত্রকে বিশ্বাস করতে গেলে যতদিন একটি চরিত্রের সঙ্গে জড়িত থাকবে ততদিন অন্যকিছু ভাবা যাবে না। চরিত্রের মধ্যেই ডুবে থাকতে হবে। তাহলেই বিশ্বাসযোগ্য হবে। আলাদা করে চর্চা করতে হয় না। চরিত্রটি নিজের মতো করে ভাবা।

অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন। আসলেই তাই?
সে রকম কিছু না। সহশিল্পী হিসেবে অর্ণব অনেক বেশি রিজার্ভ। আমরা দুজন দুজনকে অসম্ভব রকমের সম্মান করি। এই মুহূর্তে আমার জীবনে মানুষ বলতে আমি আর বাবা-মা। এর বাইরে কেউ নেই।

বলেছেন প্রেমের জন্য নিজেকে জানা দরকার। এই মুহূর্তে সম্পর্কে নেই। ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছে প্রেম মানে ঠিক কী?
আমার কাছে প্রেম মানে আষ্টেপৃষ্ঠে থাকা। আমি ওই মানুষের সঙ্গেই প্রেম করব যাকে জীবনসঙ্গী করতে পারব। প্রেম মানে বুঝি তার ভালোটা যেমন ভালো লাগবে খারাপটাও ভালো লাগাতে হবে। এটা উভয়ের থাকতে হবে। আমি বিয়েতে বিশ্বাস করি। তবে সময় সবকিছু বলে দেব। আমরা আগাম কিছু বলতে পারি না। আপাতত কাজেই ডুবে থাকতে চাই।

বাংলাদেশ থেকে কখনো কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন কিংবা কাজ করতে চান?
একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলাম। শাকিব খানের বিপরীতে একটি সিনেমা প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে আর হয়নি। ভীষণভাবে বাংলাদেশে কাজ করতে চাই। ঢাকার নাটক কম দেখা হলেও সিনেমা দেখা হয়। শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করতে চাই। সেইসঙ্গে আফরান নিশোর বিপরীতে কাজের খুব ইচ্ছে আছে। তবে সবচেয়ে বেশি পছন্দ জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। কখনো সুযোগ পেলে তার সঙ্গেও কাজ করতে চাই। নিশোর ‘সিন্ডিকেট’ ও ‘দাগি’ দেখেছি। ‘দাগি’ ভীষণ ভালো লেগেছিল।

কাজ করতে গিয়ে কখনো তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে?
ছোটখাটো তিক্ত অভিজ্ঞতা সব জায়গায় আছে। সোজা পথে চললে কেউ বাঁকা রাস্তায় নিয়ে যেতে পারবে না। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আপন মনে কাজ করছি। কিন্তু দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে উল্লেখ করার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়নি। বাবা-মায়ের থেকে শেখা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা হচ্ছে, জীবনে বা উন্নতির সিঁড়িতে এক লাফে উঠতে যেও না। আস্তে ধীরে উপরে ওঠা ভালো। চলার পথে এই কথাগুলো খুব মাথায় রাখি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কী?
স্বপ্ন দেখার আগেই অভিনয়ে নাম লেখাই। প্রাপ্তি এটাই যে, এ জীবনে প্রচুর মানুষ চিনতে পেরেছি। অভিনয়ে এসে আমার খুব বেশি কাঠখড় পোহাতে হয়নি। আমি অভিনয় ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না। ভালোবাসা থেকেই অভিনয়ে আসা। অভিনয় আমার কাছে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো। ‘ভোজো গোবিন্দ’ ধারাবাহিক আমাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

নাটক, ওটিটি ও চলচ্চিত্রÑ তিন মাধ্যমে কাজ করছেন। কোন মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
যে কোনো প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করলেই আমি তৃপ্তি পাই। আমি অভিনয়পাগল একজন মানুষ। অভিনয় ও ভালো চরিত্র আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো চরিত্রের জন্য মুখিয়ে থাকি। কেউ ভালো চরিত্রে অভিনয় করলে আমার হিংসা হয়। আর তিন মাধ্যম তিন রকমের। অভিনয়ের অনেক প্যারামিটার আছে। সবকিছু আলাদা।

ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্য কখনো কাজ হাত ছাড়া হয়েছে?
এই ঠোঁটকাটা স্বভাবের কারণে সুবিধা-অসুবিধা দুটিই আছে। এ কারণে কাজ হাত ছাড়াও হয়েছে। আমি মানুষকে ভীষণ সম্মান দিতে যেমন পছন্দ করি তেমন পেতেও পছন্দ করি। আমি চাই লোকে আমাকে দমকা হাওয়ার মতো মনে রাখুক।

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ শর্ত?
কখনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করিনি। গল্পের প্রয়োজনে যদি অতীব জরুরি হয় সে ক্ষেত্রে খুব লোভনীয় চরিত্র হলে কাজ করব। অযথা প্রয়োজন ছাড়াই এমন দৃশ্যে করতে চাই না। এমন অনেক কাজই না করেছি। আর করতেও চাই না।

অভিনয়ের জন্য কর্মশালা করতে হয়েছিল?
অভিনয় করতে করতে অভিনয় শিখেছি। কোনোদিন ভাবিনি নরমাল মেয়ে থেকে বিভিন্ন চরিত্র হয়ে উঠব। এই পথচলায় যারা সুযোগ দিয়েছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে দর্শক ও সাংবাদিক বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই। আমার চাওয়া ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ ধারাবাহিকটি ঢাকাসহ সব জায়গায় অন্যতম নাম হয়ে থেকে যাক।

বাংলাদেশ থেকে দর্শক সাড়া পান?
বাংলাদেশ থেকে প্রচুর দর্শক সাড়া পেয়ে থাকি। ‘ভোজো গোবিন্দ’ নিয়ে ঢাকায় অনেক পথ ও মঞ্চনাটক হয়েছে। ডালি চরিত্রটা অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ নিয়ে পোস্ট করলে এখনো বাংলাদেশ থেকে অনেক সাড়া পাই। এর আগে দুবার এসেছিলাম। সুযোগ পেলে আবারও আসতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ চরিত্র ও মানুষকে ভীষণ ভালোবাসা দেয়।

টালিউডে এখনো পর্দা ভাগ করা হয়নি। কিন্তু চান এমন কেউ আছে?
অনেকেই আছে। তবে প্রথমে নিতে চাই বুম্বা দার (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) নাম। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে কিন্তু ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ হয়নি। ৫ মিনিটের জন্য হলেও ভীষণভাবে তার সঙ্গে কাজ করতে চাই। না হলে জীবনে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে।

অবসর সময় কীভাবে কাটে?
বই পড়ে। একটা বই অনেক দিন পড়ি। শুটিংয়ের কারণে সেভাবে সময় পাই না। ছুটির দিনে বই পড়ে, কফি খেয়ে সময় কাটাই। মন খারাপ থাকলে গান শুনে ঘুমিয়ে যাই। তবে কখনো গান করার পরিকল্পনা নেই। সবকিছু সবার জন্য না। আমার জীবনটা খোলা বই বানাতে চাই না। এ ছাড়া আমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা খুব পছন্দ করি। সময় পেলে বাড়ি ঘুছিয়ে রাখি। আমার ভালো লাগা খারাপ লাগা সবকিছু বাড়ি ঘিরেই।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!