× UCB Sticker Card
শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

জঙ্গল সলিমপুরে ৪টি সড়ক নির্মাণ শুরু করেছে সেনাবাহিনী

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে এলাকাটিতে চারটি সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ব্রিগেডের অধীনস্থ একটি ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মিত হবে। আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর বাইরে জঙ্গল সলিমপুরে আরও একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এখনো প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কাজ শুরু করেছি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তার করে আসছে। পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কার্যকরভাবে চলাচল ও অভিযান পরিচালনা করতে সমস্যা হয়। তিনি বলেন, এলাকাটিতে সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। অবশেষে তা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর একটি দুর্গম, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা। কয়েক দশক ধরে এটি দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ ও দুর্ভেদ্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী প্রথম এ অঞ্চলে প্রবেশ করে পাহাড়ি খাসজমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন। নিজের দখল বজায় রাখতে তিনি একটি সশস্ত্র বাহিনীও গড়ে তোলেন।

পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্নআয়ের বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভূমি বাণিজ্য গড়ে ওঠে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ এলাকায় অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। পরে এলাকায় যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

এদিকে গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জবাবে পুলিশ ও র‍্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে। তবে এর আগে তারা এলাকায় নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে পুলিশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি সড়কও কেটে ফেলে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

Link copied!