× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আরিয়ান স্ট্যালিন

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৫:১০ এএম

স্টারমারের পদত্যাগ

কে হচ্ছেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী

আরিয়ান স্ট্যালিন

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৫:১০ এএম

কে হচ্ছেন ব্রিটেনের  নতুন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট প্রায় তিন শতাব্দী ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। একসময় এই ঠিকানায় বছরের পর বছর কাটিয়েছেন উইনস্টন চার্চিল, মার্গারেট থ্যাচার কিংবা টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা। কিন্তু গত এক দশকে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ২০১৬ সালের পর থেকে সাতজন প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে বসবাস করেছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

স্টারমারের এই ঘোষণার পরপরই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কে হতে পারেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী? এক্ষেত্রে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং তিনিই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী এই নেতা সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়লাভ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। দলের অনেক সংসদ সদস্য তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। তবে ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যাঞ্জেলা রায়নার এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।

গতকাল সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে স্টারমার স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি এখন তার সন্তানদের জন্য আরও বেশি সময় দিতে চান। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্টারমারের পদত্যাগের পরপরই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নিশ্চিত করেন, তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবেন। এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, তিনি নিজে প্রার্থী হবেন না; বরং বার্নহ্যামের নেতৃত্বের বিডকে সমর্থন করবেন। এর আগে তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া আগামী জুলাইয়ে শুরু হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে গ্রীষ্মকালজুড়ে ভোটাভুটি চলতে পারে, তবে যদি বার্নহ্যামের বিপক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রার্থী না দাঁড়ান, তাহলে সেপ্টেম্বরের আগেই নতুন নেতা নির্বাচিত হতে পারেন। লেবার পার্টির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এ পরিবর্তনের জন্য সাধারণ নির্বাচন প্রয়োজন হবে না।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, প্রধান দুই দলের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং নেতৃত্বের ঘনঘন পরিবর্তনÑ সব মিলিয়ে ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় জয় পায়। দীর্ঘ কনজারভেটিভ শাসনের পর জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় লেবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার সরকার দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসেবা সংস্কার এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাক্সিক্ষত সাফল্য দেখাতে পারেনি। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা।

সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচনে লেবার পার্টির বাজে ফল দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তোলেন। অনেকে মনে করেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হতে হলে লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে অবশেষে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

দুই দলের প্রতি আস্থাহীনতা : বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, ব্রিটিশ রাজনীতির গভীরে আরও বড় সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতি মূলত দুটি বড় দলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ভোটারই মনে করছেন, কনজারভেটিভ ও লেবারÑ দুই দলই তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অসন্তোষের সুযোগ নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো। বিশেষ করে ব্রেক্সিটপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে নাইজেল ফারাজের দল দ্রুত সমর্থন বাড়াচ্ছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে : রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিটেনের বর্তমান সংকট কোনো একক নেতা বা একক দলের ব্যর্থতার ফল নয়। ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিভক্ত সমাজ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অভিবাসন বিতর্ক, জনসেবার চাপ এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষÑ সবকিছু মিলিয়ে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এক দশকে সাত প্রধানমন্ত্রী বদলের ঘটনা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। নতুন নেতা যিনিই হোন না কেন, তাকে শুধু দলকে ঐক্যবদ্ধ করাই নয়, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কঠিন দায়িত্বও নিতে হবে।

এ কারণেই ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবেÑ সেই প্রশ্নেরও গুরুত্বপূর্ণ উত্তর নির্ধারণ করতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!