দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী একটি বৃহৎ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তর এবং শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে নেওয়া এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এ-সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধন হয়।
বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিডকমের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য ৭০টি কর্মসূচির প্রথম আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান। কর্মশালার মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওরীত। এ ছাড়া হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘এডুরোম’ সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এডুরোমের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল পরিচয় ব্যবহার করে নিরাপদ ওয়াই-ফাই ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং এবং জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য-প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বিডকমের সঙ্গে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার পণ্য ও সেবা চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিশ্ব বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্ট কৃষিতে গাছের পুষ্টি ঘাটতি শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রয়েছে। তাই প্রযুক্তিকে বর্জন নয়, বরং দায়িত্বশীল ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন