ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি সদর জোনের ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।
আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে ডিবি সদর জোন থেকে পরিদর্শক (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে একই দিন বেলা ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মির্জা এসকেন্দারের ছেলে। তিনি ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তাকে এর মধ্যে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মধুখালীর গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করে। পরে তাকে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাদক-সংক্রান্ত আরও কিছু অভিযানের পর ভোরে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। গত রোববার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়। প্রান্তকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সমানেই নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। তবে পুলিশের দাবি, হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার জানাজার আগে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। এ সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ করা হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে স্বজনদের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন