× UCB Sticker Card
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

গাজীপুরে আর্থিক সংকটে বন্ধ দুই কারখানা, কর্মহীন ১৮০০ শ্রমিক

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

গাজীপুরে আর্থিক সংকটে বন্ধ দুই কারখানা, কর্মহীন ১৮০০ শ্রমিক

আর্থিক সংকটের অজুহাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিক ডিজাইনার্স’ এবং ‘ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে চরম উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলোর।

জানা গেছে, গত ১৬ জুন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি কারখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিলে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারখানার শ্রমিক মো. মনির হোসেনের মতো অনেকেরই এখন অসহায় অবস্থা। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে এসে পরিবার নিয়ে এখানে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কারখানা বন্ধ হওয়ায় এখন তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। পরিবার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো এবং অসুস্থ বাবা-মায়ের ওষুধের জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাওনা টাকা সময়মতো পাবেন কি না, তা নিয়েও তাদের মনে বড় সংশয় রয়েছে।

শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও আইনানুগ সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে গত ২১ জুন গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর কার্যালয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আপস-মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), শ্রম অধিদপ্তর, মালিক পক্ষ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিলের ১৫ দিন ও মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া ‘নোটিশ পে’ হিসেবে ৩০ দিনের মূল বেতন এবং চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থসহ অন্যান্য পাওনা আগামী ২৭ জুলাই একযোগে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালিক পক্ষ।

তবে এই চুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি শ্রমিক নেতারা। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ঈদের আগে বেতন নিয়ে সমস্যা সমাধান হলেও মালিক পক্ষ কারখানা চালু না রেখে বন্ধের পথ বেছে নিয়েছে। তার দাবি, এই চুক্তি পুরোপুরি শ্রমিকবান্ধব নয় এবং শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অনেক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের মতে, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়া শ্রমবাজারের জন্য অশনিসংকেত। এতে হাজারো পরিবার জীবিকা ও শিক্ষা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। শ্রমিকরা তাদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!