বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সদস্যপদ প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অযোগ্যদের সদস্য করার প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন বরেণ্য চিত্রনায়িকা ববিতা। নির্বাচনি আমেজকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে একটি নতুন বিতর্কÑ ৪০ জন নতুন সদস্যকে ঢালাওভাবে পূর্ণ সদস্যপদ ও ভোটাধিকার প্রদান।
অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, নিয়ম লঙ্ঘন করে এ সদস্যপদগুলো দেওয়া হয়েছে। আর এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। এফডিসির এই চলমান নোংরা রাজনীতির মুখে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, শিল্পী সমিতির সদস্যপদ কোনো দয়া বা উপহার নয়।
শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিনয়শিল্পীকে পূর্ণ সদস্যপদ পেতে হলে তাকে কমপক্ষে ৫টি মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ বা অবিতর্কিত চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি মিশা সওদাগর ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরমান স্বাক্ষরিত নতুন তালিকায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। মাত্র ১টি বা ২টি সিনেমাতে কাজ করেই অনেকে রাতারাতি ভোটার বা পূর্ণ সদস্য বনে গেছেন, যা প্রকৃত ও আজীবন অভিনয় করা শিল্পীদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।
চলচ্চিত্রের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের মর্যাদা ধূলিসাৎ হতে দেখে চুপ থাকতে পারেননি জ্যেষ্ঠ এই অভিনেত্রী। ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, শিল্পী সমিতির সদস্যপদ কোনো দয়া বা উপহার নয়, মন চাইল দিয়ে দিলাম! কিংবা সদস্য বাড়াতে হবে বলে নিয়ম না মেনেই সদস্যপদ দিয়ে দিলামÑ ব্যাপারটা এমন হতে পারে না। গঠনতন্ত্রে যে শর্তের কথা বলা আছে, তা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য থাকা উচিত। নিয়মের বাইরে গিয়ে সদস্যপদ দেওয়াতে সমিতির মর্যাদা যেমন নষ্ট হয়, তেমনি প্রকৃত শিল্পীরাও বিব্রত হন। তাই সদস্যপদ প্রদানে শতভাগ স্বচ্ছতা ও গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা উচিত।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট এবং সাধারণ শিল্পীদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একসঙ্গে ৪০ জনকে পূর্ণ সদস্য করার পেছনে কোনো সাংগঠনিক মহৎ উদ্দেশ্য নেই, বরং এটি স্রেফ ভোটের রাজনীতি। নতুন ভোটার যুক্ত করে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা চলছে এখানে। যাদের যোগ্যতা নিয়ে খোদ চলচ্চিত্র পাড়াতেই প্রশ্ন আছে, তাদের কাঁধে ভর করেই বৈতরণী পার হতে চাইছে বর্তমান প্যানেলের একাংশ।
১৯৮৪ সালে নায়করাজ রাজ্জাকের হাত ধরে যে সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিল শিল্পীদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে, আজ তা নিয়মের মারপ্যাঁচে প্রশ্নবিদ্ধ। ববিতার মতো গুণী ও বর্ষীয়ান শিল্পীদের এই প্রতিবাদ কেবল একটি ক্ষোভের বহির্প্রকাশ নয়, বরং এটি শিল্পী সমিতির হারানো গৌরব ও আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি আকুল আহ্বান। নির্বাচন আসবে, নেতৃত্ব বদলাবেÑ কিন্তু নিয়মের জলাঞ্জলি দিয়ে তৈরি হওয়া এই তাসের ঘর কতদিন টিকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন