× UCB Sticker Card
শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাহীনুর ইসলাম শানু, রংপুর থেকে ফিরে

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

মৌসুমেও কমেনি চালের দাম

শাহীনুর ইসলাম শানু, রংপুর থেকে ফিরে

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

মৌসুমেও কমেনি চালের দাম

ঈদুল আজহার আগে-পরে দেশে বোরো ধানের মৌসুম শুরু হয়। মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসার সময় দাম কমার কথা থাকলেও ঢাকার বাজারে উল্টোচিত্র দেখা যায়। এবারো সবধরনের চালের দাম কেজিতে অন্তত তিন টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সুগন্ধি চালের। তবে ব্যতিক্রম দেখা যায় রংপুর অঞ্চলের চালের বাজারে। ঢাকার সঙ্গে রংপুরের চালের খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে পার্থক্য কমবেশি ১০ টাকা।

অন্যদিকে ঢাকার অধিকাংশ বাজারে সবজির দাম বাড়েনি। তবে মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে। অপরদিকে ডিমের দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

চাল ব্যবসায়ীদের একটি অংশ জানিয়েছে, দেশের শীর্ষ কয়েকটি গ্রুপ ধান কিনে চাল উৎপাদন করছে। এখন তারাই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা আওয়ামী লীগ আমলেও করত। বোরো মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে তারা ধান কেনে। ধান কিনে চাল উৎপাদন ও বিপণন করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের উদ্দেশ্য। বিশেষত সুগন্ধি চাল নতুন নামে, ভিন্ন মোড়কে এবং নিজস্ব দামে বিক্রি করছেন তারা।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘মোটা চালের মধ্যে বিআর-২৮, চিকন স্বর্ণা, বিআর-২৯ জাতের চালের দাম কেজিতে তিন টাকা আগেই বেড়েছে। নতুন করে চালের দাম আর বাড়েনি।’

অপরদিকে সবজি ব্যবসায়ী মো. আরিফ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভারত থেকে আসা পানিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় খেত ডুবে যাচ্ছে। জুলাই মাসে সবজির সরবরাহ কমেনি। আগামী মাসে হঠাৎ বন্যা হলে সরবরাহ কমবে, তখন দাম বাড়তে পারে।’ যা আশঙ্কার বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

চালের বাজার পর্যবেক্ষণে জানা যায়, রংপুরে বিআর-২৮, চিকন স্বর্ণা, বিআর-২৯ জাতের চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। একই চাল ঢাকায় স্থানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকায়।

দেশের উত্তরাঞ্চল রংপুর বিভাগে গত মে মাসে ৪৬৪ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; যা স্বাভাবিকের অনেক বেশি বলে জানায় আবহাওয়া অফিস, রংপুর। অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিপণ্য কৃষক খেত থেকে সব তুলে নিতে পারেনি। যার কারণে খেতে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয় এবং ঈদের আগে ক্রেতাশূন্যতায় ভোগেন। সে সময় ধান প্রতিমণ ৭২০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ভুট্টা ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সেই দাম বেড়ে এখন এক হাজার থেকে ১১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার তুলারামপুর গ্রামের কৃষক কামরুল সরকার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন ধান ঘরে আর নেই। যা ছিল কয়েকদিন আগে এক হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি।’ উপজেলার অনেক কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘ঋণ করে আবাদ করি, আবাদ তুলে বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করি। ধান ঘরে তুলে রাখার সময় কই। যাদের আছে তারা পারে।’ তবে গ্রামের কিছু ফড়িয়ার কাছে সামান্য ধান রয়েছে। ‘চাষির কাছে নেই। যা ধান আছে কোম্পানির লোকের কাছে’ বলেন তারা। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘চাল আমদানি বন্ধ হলেই দাম বাড়বে। আমদানি আছে তাই সুযোগ নিতে পারছে না’ বলেন তিনি।

এদিকে, কয়েকদিনের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে দুই-তিন সপ্তাহ আগে বাজারে কয়েক ধরনের চালের দাম যে সামান্য বেড়েছিল, তা এখনো কমেনি; আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও রসুনের মতো অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় কোনো হেরফের হয়নি, দাম রয়েছে আগের মতোই স্থিতিশীল।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও মালিবাগের কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজারে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এ ছাড়া সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়।

দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইল ও বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। নতুন করে দাম না বাড়লেও সেই বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়। নাজিরশাইল কিনতে হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। এ ছাড়া বিআর-২৮ বা মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে ডিম ব্যবসায়ী উজ্জ্বল বলেন, ‘ডিমের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এক ডজন সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ১০০ টাকা আর ব্রাউন কালারের ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন ছিল।’

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!