× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

 ইসলামের আলো ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

যে খেলাধুলায় উৎসাহ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

 ইসলামের আলো ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

যে খেলাধুলায় উৎসাহ  দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানুষের আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক সৌহার্দ্যরে প্রতিও ইসলাম সমান গুরুত্ব প্রদান করেছে। তাই ইসলাম কখনো খেলাধুলাকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেনি; বরং এমন খেলাধুলাকে উৎসাহিত করেছে, যা শরীরকে শক্তিশালী করে, দক্ষতা বৃদ্ধি করে, আত্মরক্ষার যোগ্যতা গড়ে তোলে এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে।

বর্তমান যুগে খেলাধুলা অনেক সময় নিছক বিনোদন কিংবা পেশায় পরিণত হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সুস্থতা, উপকারিতা ও কল্যাণ অর্জন। নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শে আমরা এমন কিছু খেলাধুলা ও শারীরিক প্রশিক্ষণের দৃষ্টান্ত পাই, যা আজও মুসলিম সমাজের জন্য অনুসরণীয়।

খেলাধুলা সম্পর্কে ইসলামের নীতিমালা

ইসলাম খেলাধুলাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে-

১. হারাম বা নিষিদ্ধ খেলাধুলা

যেসব খেলায় জুয়া, অশ্লীলতা, সতর উন্মুক্ত হওয়া, অন্যায় প্রতিযোগিতা বা ফরজ ইবাদত অবহেলার কারণ সৃষ্টি হয়, সেগুলো হারাম।

২. অপছন্দনীয় খেলাধুলা

যেসব খেলা মানুষকে দ্বীনি দায়িত্ব থেকে গাফেল করে দেয় বা সময় অপচয়ের কারণ হয়।

৩. বৈধ ও প্রশংসনীয় খেলাধুলা

যেসব খেলাধুলা শরীরচর্চা, দক্ষতা অর্জন, আত্মরক্ষা ও কল্যাণকর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় এবং শরিয়তের সীমারেখা অতিক্রম করে না।

কোরআনের দিকনির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা বলেন-

‘আর তারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা আল-মুমিনুন: আয়াত ৩)।

এই আয়াত থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, একজন মুমিনের সময় ও কর্ম হবে উদ্দেশ্যমূলক এবং কল্যাণকর। খেলাধুলাও তখনই প্রশংসনীয় হবে, যখন তা উপকারী ও অর্থবহ হবে।

নবীজি (সা.) যেসব খেলাধুলা উৎসাহ দিয়েছেন

১. তীরন্দাজি (অৎপযবৎু)

তীরন্দাজি ছিল ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তীর নিক্ষেপ শেখাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটিকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

‘তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করাই আমার কাছে অধিক প্রিয়।’ (মুসলিম ১৯১৮)। তীরন্দাজি মনোযোগ, ধৈর্য, শারীরিক ভারসাম্য ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।

২. অশ্বচালনা ও ঘোড়দৌড়

ঘোড়া ছিল সে যুগের প্রধান বাহন এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়াগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন।’ (বুখারি ২৮৭০)। এটি শারীরিক সক্ষমতা, সাহস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক।

৩. সাঁতার শিক্ষা

সাঁতার একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। ইসলাম মানুষের উপকারী জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ অর্জনে উৎসাহ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহর স্মরণবিহীন সব কিছুই অনর্থক, তবে চারটি বিষয় ব্যতীত... তার মধ্যে রয়েছে সাঁতার শিক্ষা।’ (নাসাঈ ৮৯৪০)।

সাঁতার শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সক্রিয় রাখে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. দৌড় প্রতিযোগিতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিবারে আনন্দ ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির জন্য বৈধ বিনোদনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন-

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন, তখন আমি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলাম।’ (আবু দাউদ ২৫৭৮)।

এ ঘটনা বৈধ বিনোদন ও পারিবারিক ভালোবাসার এক অনন্য শিক্ষা।

৫. কুস্তি বা মল্লযুদ্ধ

কুস্তি শক্তি, সহনশীলতা ও আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সীরাতগ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নবীজি (সা.) মক্কার প্রসিদ্ধ মল্লযোদ্ধা রুকানাকে কুস্তিতে পরাজিত করেছিলেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন মুমিনের শারীরিক শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।’ (মুসলিম ২৬৬৪)

৬. লক্ষ্যভেদ ও প্রশিক্ষণমূলক ক্রীড়া

যে সকল খেলাধুলা মানুষের দক্ষতা, মনোযোগ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ইসলাম সেগুলোকে উৎসাহিত করেছে। ঘোড়া প্রশিক্ষণ, লক্ষ্যভেদ এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির বিভিন্ন অনুশীলন এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে পাকে এসেছে-

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের মাধ্যমে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেনÑ তীর প্রস্তুতকারী, তীর নিক্ষেপকারী এবং যে তাকে সহযোগিতা করে।’ তিরমিজি ১৬৩৭)।

খেলাধুলা থেকে ইসলামের শিক্ষা

ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত-

শারীরিক সুস্থতা অর্জন

আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি

দক্ষতা ও মনোযোগ উন্নয়ন

মানসিক প্রশান্তি লাভ

পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করা

ইসলাম মানবজীবনের স্বাভাবিক চাহিদাকে অস্বীকার করে না; বরং সেগুলোকে সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী পথে পরিচালিত করে। খেলাধুলা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল বিনোদন নয়, বরং শারীরিক শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মরক্ষা এবং সামাজিক সৌহার্দ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আমাদের শেখায় যে, একজন মুমিন যেমন ইবাদতে অগ্রগামী হবে, তেমনি সে হবে শক্তিশালী, কর্মক্ষম ও সুস্থ। তাই ইসলামের সীমারেখা মেনে উপকারী খেলাধুলার চর্চা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কল্যাণকর এবং সুন্নাহসম্মত একটি অনুশীলন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!