শাহরাস্তিতে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা (২৩)। এই জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও বৃহস্পতিবার রাতে ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান। এর আগে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে বাত্তলা এলাকায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই নিহতের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, মামলাটি রুজুর পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে ওসির নেতৃত্বে বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে জড়িত অভিযোগে নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া প্রতিহিংসার কারণে নিজেই বড় জা মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই সন্তানের জননী নিহত রিগান আক্তার মিম মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি চাকরি সূত্রে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য (দাদাশ^শুর) নুরুল ইসলাম এবং তিন শিশু অবস্থান করছিল। এসআই শরিফুল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন