সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম এখন শুধু ছবি বা ভিডিও ভাগাভাগির মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সাইবার অপরাধ, তথ্য চুরি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন নজরদারি এবং অপ্রয়োজনীয় বার্তার ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনস্টাগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেটিংস পরিবর্তন করলেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য অনেক বেশি সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
প্রথমেই অ্যাকাউন্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিবর্তে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হিসেবে চালু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে কেবল আপনার অনুমোদিত অনুসারীরাই ছবি, ভিডিও, রিলস ও স্টোরি দেখতে পারবেন। ফলে ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তি, অচেনা অনুসারী কিংবা অবাঞ্ছিত নজরদারির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইনস্টাগ্রামের বাইরে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত করাও জরুরি। অনেক সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার ব্রাউজিং তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। হিসাব ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য ও অনুমতি অংশে গিয়ে বাইরের প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করলে এই নজরদারি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নিজের প্রকাশিত ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য বিষয়বস্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নয়নে কীভাবে ব্যবহার হবে, সেটিও ব্যবহারকারীদের জানা উচিত। সেটিংসের শেয়ার ও পুনর্ব্যবহার অংশে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বিষয়বস্তু ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত করা যেতে পারে। এতে নিজের প্রকাশিত তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব।
বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অচেনা ব্যক্তিদের কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত রাখলে প্রতারণামূলক বার্তা, ভুয়া সংযোগ কিংবা তথ্য চুরির ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা কমে যায়। একই সঙ্গে স্টোরি প্রকাশের সময় শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য প্রকাশ করা অথবা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্টোরি গোপন রাখার সুবিধা ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনলাইনে সক্রিয় থাকার তথ্য। অনেকেই চান না অন্যরা জানতে পারুক তিনি কখন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছেন। তাই অনলাইনে সক্রিয় থাকার অবস্থা প্রদর্শনের সুবিধা বন্ধ করে দিলে অন্য ব্যবহারকারীরা আপনার সক্রিয় থাকার সময় দেখতে পারবেন না। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরও নিশ্চিত হয়।
এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দুই ধাপের নিরাপত্তা যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা সেটিংস পরীক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য কয়েকটি সচেতন পদক্ষেপই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে হ্যাকিং, তথ্য ফাঁস এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার ঝুঁকি থেকে অনেক বেশি নিরাপদ রাখতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন