শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:১৩ এএম

বিটিআরসির  ৬ কর্মকর্তা  ওএসডি 

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:১৩ এএম

বিটিআরসি

বিটিআরসি

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (পিটিডি) নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে ছয় কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পদায়ন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই বিভাগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতি তদন্তে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ওই কর্মকর্তারা ওএসডি হিসেবে থাকবেন। এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের শর্ত ভঙ্গ করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে রাজস্ব খাতে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫ কর্মকর্তা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগ পাওয়া সাত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ কর্মচারীর কাছে ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। 

২০০৯ সাল থেকে বিটিআরসিতে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠলে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি কমিটিগুলো তাদের প্রতিবেদন পিটিডিতে জমা দেন। কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ৩০ জুলাই বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পিটিডির টেলিকম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া কর্মকর্তাদের ওএসডি করতে এবং স্বাক্ষরের ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবত থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া, গত ১০ আগস্ট পিটিডির পক্ষ থেকে আরেক চিঠিতে মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয় বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে। 

মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির নিজস্ব চাকরি বিধিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি কমিশন সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশনের ২৯৮তম সভায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ওই ছয় কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। তারা হলেনÑ কমিশনের লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কু-ু; সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস (এসএস) বিভাগের পরিচালক মো. এয়াকুব আলী ভূঁইয়া; অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ; প্রশাসন বিভাগের পরিচালক এম এ তালেব হোসেন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স (ইএন্ডও) উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং স্পেকট্রাম বিভাগের উপপরিচালক শারমিন সুলতানা। 

লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কু-ুর বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার অভিযোগ ছিল। উপপরিচালক আসাদুজ্জামানের উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র গমন ও বিটিআরসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল। আরেক উপপরিচালক শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে বয়স প্রমার্জন করে রাজস্ব খাতে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ ও অনুমোদন ব্যতীত বিদেশে অবস্থানের অভিযোগ ছিল। এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। 

অন্যদিকে পদোন্নতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ছিল তিন পরিচালকÑ তালেব, ওয়াদুদ এবং এয়াকুবের বিরুদ্ধে। তিনজনের পদোন্নতির ক্ষেত্রেই নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি। এয়াকুব আলী ভূঁইয়া উপপরিচালক থেকে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে চার বছরের বদলে মাত্র ৬ মাস ১ দিন দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে আফতাব মো. ওয়াদুদ ১ বছর ২২ দিন উপপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং এম এ তালেব ৩ বছর ২৬ দিন উপপরিচালকের পদে থেকেই পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। 

পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি পরিচালক এয়াকুব আলী ভূঁইয়ার অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে পরিচালক হিসেবে পদায়নে অনিয়ম পেয়েছে। বিষয়টিকে বিটিআরসিতে শুদ্ধাচার চার্চার ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় বিটিআরসির প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিটিআরসি থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। তবে এ বিষয়ে কমিশনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আব্দুল্লাহ আল মামুন বিটিআরসি থেকে বদলি হওয়ায়, কমিশন সভায় তাকে নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 

এ ছাড়া আরও যেসব কর্মকর্তার নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। এই তালিকায় মোট ২২ জন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণির ২২ জন কর্মচারী রয়েছেন। একই সাথে, সাবেক কমিশনার (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরীর চুক্তি ছাড়াই কমিশনার হিসেবে নেওয়া বেতন ও ভাতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।  

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিটিআরসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বিবেচনায় রেখে কমিশন সভায় কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সম্প্রতি রূপালী বাংলাদেশকে জানিয়েছিলেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!