ছোট পর্দার প্রিয়মুখ নাজিরা মৌ। একটা সময় চুটিয়ে কাজ করতেন। গেল কয়েক বছর ধরে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। থিতু হয়েছেন সংসার ও নিজের ব্যবসায়। আরও কয়েক বছর আগে বড় পর্দায় অভিষেক হওয়ার কথা ছিলো মৌ’র। সর্বশেষ গত বছর চলচ্চিত্রে অভিষেক হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
অপেক্ষার প্রহর শেষে চলতি বছর ১২ সেপ্টেম্বর ‘নন্দিনী’র মাধ্যমে টিনসেল টাউনে পা রাখবেন এই অভিনেত্রী। সোয়াইবুর রহমান রাসেল পরিচালিত এই সিনেমা নিয়ে প্রত্যাশার শেষ নেই নাজিরা মৌ’র।
মৌ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘নন্দিনী’ গেল বছর ২ আগস্ট মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যা পিছিয়ে যায়। সবকিছু বিবেচনা করে এ বছর ১২ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসছে। সত্যি বলতে, ‘নন্দিনী’ আমার স্বপ্নের জায়গা। দর্শকরা আমাদের পরিশ্রমের ফসল বড় পর্দায় দেখবে। খুবই এক্সাইটেড এ নিয়ে।
তিনি আরও যোগ করলেন, ২০২১ সালে সর্বশেষ পাঁচ দিনের লটের শুটিং করেছিলাম। তারপর ২০২৩ সালে শেষ করি ডাবিং। এ সিনেমায় একটি মেয়ের জীবনের পথচলা তুলে ধরা হয়েছে। যে চরিত্রে দর্শক আমাকে দেখবে।
‘নন্দিনী’ সিনেমায় নাজিরা মৌ’র সহশিল্পী ভারতের অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। পরিতোষ বাড়ৈ’র নরক নন্দিনী উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।
প্রথম সিনেমা নিয়ে প্রত্যাশার কথা শোনালেন নাজিরা। বললেন, দিনক্ষণ যতই কাছে আসছে ভয়ের মাত্রা বাড়ছে। দর্শক কীভাবে নিবে তা ভেবে। আমার সঙ্গে ইন্দ্রনীলের শুটিং ছিল দিনের বেলায়। সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়তাম। সূর্যের আলো থাকা পর্যন্ত শুটিং করতাম। অনেক কষ্টের কাজ ‘নন্দিনী’। যদিও চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। রাসেল খুবই ভালো মানুষ। তার টিমও ভালো ছিল। কাজটি উপভোগ করেছি।
সিনেমাটি নিয়ে নাজিরার আশাও বেশ। তার ভাষ্যে, আমার তো মনে হচ্ছে বসার সিট পাওয়া যাবে না। আগের তুলনায় প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। দর্শকদের ‘নন্দিনী’ দেখার ইচ্ছে হবে।
সিনেমায় পা রাখার পর ক্যারিয়ার কোন দিকে মোড় নিতে পারে প্রশ্ন করলে মিষ্টি করে হেসে মৌ বললেন, আমার কাছে বাণিজ্যিক সিনেমার প্রস্তাব এসেছিল। গল্প, সহশিল্পী ও টিম যদি ভালো হয় তাহলে অবশ্যই কাজ করব। আগের মতো নাটক করছি না। সর্বশেষ নেপালে গিয়ে তিনটি নাটকের শুটিং শেষ করেছি। তার আগের বছর দুটি নাটকের কাজ করেছি। আসলে আমি মেয়েকে সময় দিতে চেয়েছি। মাসে পাঁচ দিন সময় দিয়ে কাজ করা সম্ভব। আগের মতো মাসে পঁচিশ দিন কাজ আর সম্ভব নয়। তা ছাড়া পার্লারের ব্যবসা আছে। ব্লাশ বিউটি বাই নাজিরা মৌ। আমি একজন কসমোটোলিজস্ট। এ নিয়ে সময় কেটে যায়।
২০০৬ সালে ‘বিনোদন বিচিত্রা’ প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়ে বিনোদন অঙ্গনে পা রাখেন নাজিরা মৌ। পরের বছর দেবাশীষ বিশ্বাসের টিভি নাটকের মাধ্যমে তার অভিনয়ে অভিষেক। তিনি নিয়মিত মডেলিং ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করেন তিনি। তবে বিজ্ঞাপনে কাজ করেই বেশি পরিচিতি পান নাজিরা মৌ।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন