ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ফের প্রাণহানি, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রাশিয়ায় তিনজন এবং ইউক্রেনে একজন রয়েছেন। এতে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ গ্লাদকভ জানিয়েছেন, ড্রোন আঘাতে একটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে একজন নিহত হন। পৃথক আরেকটি ঘটনায় একটি যানবাহনে হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ প্রাণ হারান। এ হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহে একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলাটি বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানে, যা নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সংঘাতের অংশ হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর তুয়াপসের একটি বড় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। এতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরে অবস্থান করা এবং জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক হামলার কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকে এবং পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা দেখা দেয়।২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশই নিয়মিতভাবে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেন বলছে, তাদের লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি খাত দুর্বল করে সামরিক সক্ষমতা কমানো। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশে^র আধিপত্য কমছে এবং দক্ষিণের দেশগুলো এখন বৈশি^ক প্রবৃদ্ধির নতুন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।

তার মতে, বিশ^ এখন বহু মেরুকেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের পথ বেছে নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশি^ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণহানি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তির নতুন সমীকরণÑ দুটি দিকই বর্তমান বিশ^ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।