বিশ্বজুড়ে মানসিক সমস্যার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ১২০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উদ্বেগজনিত সমস্যা ও গুরুতর বিষণœতা। উদ্বেগজনিত সমস্যা বেড়েছে প্রায় ১৫৮ শতাংশ এবং বিষণœতা বেড়েছে ১৩১ শতাংশ। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি মন খারাপ, দ্বিমুখী মানসিক সমস্যা, সিজোফ্রেনিয়া, অটিজম, মনোযোগ ঘাটতি সমস্যা ও খাদ্যাভ্যাসজনিত নানা মানসিক সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও অঞ্চল নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বিষণœতা, উদ্বেগ ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে শিশু ও কিশোর ছেলেদের মধ্যে মনোযোগ ঘাটতি, আচরণগত সমস্যা ও অটিজমের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, একাকিত্ব, ঘুমের অনিয়ম এবং পারিবারিক দূরত্ব এর বড় কারণ। দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিষণœতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। গবেষকরা বলছেন, সচেতনতা বাড়ার কারণে এখন অনেকেই মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে পারছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মন খারাপ বা দুশ্চিন্তাকেও রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা বাড়ছে বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আধুনিক জীবনযাত্রাকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহুরে ব্যস্ততা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি এবং প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাওয়া মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পর্দা ব্যবহারের সময় কমানো জরুরি। পাশাপাশি মানসিক সমস্যাকে লুকিয়ে না রেখে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন