মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘদিনের মূল্যায়নকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের নতুন অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ২৫ মিনিটের এক বিশেষ প্রাইম-টাইম ভাষণে তিনি এই দাবি করেন এবং নিজের দাবির সপক্ষে কিছু ‘গোপন নথি’ প্রকাশের কথাও জানান। ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন অবৈধভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের নাম-ঠিকানাসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছিল এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই স্পর্শকাতর বিষয়টি এতদিন ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের নিরাপত্তা ইস্যুটিকে আবারও মার্কিন রাজনীতির মূল আলোচনায় নিয়ে আসতে চাইছেন ট্রাম্প। ভাষণে তিনি দাবি করেন, তার প্রকাশিত নথিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থার ‘ভয়াবহ দুর্বলতা’ সবার সামনে তুলে ধরবে। এছাড়াও ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন চারটি অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ ৭৫ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক না হয়েও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে ঠিক কতজন ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
ট্রাম্পের এমন বিস্ফোরক দাবি ওয়াশিংটনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিলেও মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। ২০২১ সালে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের নির্বাচনে কোনো বিদেশি শক্তি ফল বা ভোটার নিবন্ধনে হস্তক্ষেপ করেনি। মজার বিষয় হলো, প্রতিবেদনটি ট্রাম্প প্রশাসনের তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এবং বর্তমান সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফের অধীনেই তৈরি হয়েছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রকাশিত নথির একটিতে খোদ উল্লেখ রয়েছে যে, চীনা গোয়েন্দারা জো বাইডেনের প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলেও নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বেইজিংয়ের ছিল না। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।’ সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নারও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
এই রাজনৈতিক জলঘোলার মধ্যেই ট্রাম্প কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের ওপর ‘সেইভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের একটি বিশেষ নির্বাচনি বিল পাসে জোর চাপ সৃষ্টি করছেন। ভোটারদের পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সংবলিত এই বিলটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতার কারণে সিনেটে আটকে রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, কোনো অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও এখনো ৬৩ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক বিশ্বাস করেন যে ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পরিস্থিতি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ট্রাম্প মূলত নিজের রাজনৈতিক সমর্থন সুসংহত করতেই এই ইস্যুটি সামনে এনেছেন, যা আগামী সেপ্টেম্বরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠকের আগে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন