ভয় পেলে বা তীব্র আবেগ অনুভব করলে আমাদের গা শিউরে ওঠে বা গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়, যা বিজ্ঞানের ভাষায় পাইলোরেকশন নামে পরিচিত। রাতে একা হাঁটার সময় অদ্ভুত শব্দ শোনা থেকে শুরু করে ভৌতিক মুভি দেখা পর্যন্ত, এই অভিজ্ঞতাটি কম বেশি সবারই হয়। এর পেছনে রয়েছে আমাদের শরীরের একটি প্রাচীন প্রতিরক্ষা কৌশল। এর মূল কারণ হলো আমাদের ত্বকের নিচে থাকা খুব ছোট ছোট পেশি, যাদের বলা হয় অ্যারেক্টর পিলি। এই পেশিগুলো প্রতিটি লোমকূপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা ভয় পাই, তখন আমাদের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই তন্ত্রই আমাদের পরিচিত লড়াই করো অথবা পালাও প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী। বিপদের সংকেত পাওয়া মাত্র, এই স্নায়ুতন্ত্র এপিনেফ্রিন বা অ্যাড্রেনালিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত পাঠায়। এই রাসায়নিকের প্রভাবে অ্যারেক্টর পিলি পেশিগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়। পেশি সংকোচনের ফলে লোমকূপগুলোতে টান পড়ে এবং লোমগুলো খাড়া হয়ে যায়, যার ফলে ত্বকে ছোট ছোট কাঁটা কাঁটা ভাব দেখা দেয়। মস্তিষ্কের কাছে বাস্তব বিপদ এবং সিনেমার দৃশ্যের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য না থাকায়, সিনেমার ভয়ও একই শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
পশুদের ক্ষেত্রে, লোম খাড়া করা তাদের শরীর গরম রাখতে বা নিজেকে আরও বড় ও ভয়ানক দেখিয়ে শিকারিকে ভয় দেখাতে সাহায্য করে। মানুষের ক্ষেত্রে যদিও এখন এটি সরাসরি প্রতিরক্ষার কাজ করে না, তবুও তীব্র ঠান্ডা, ভয়, বা এমনকি সুন্দর গান শোনার মতো তীব্র আবেগের সময়েও এটি একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। আসলে এটি মানবদেহের একটি বিবর্তিত অবশিষ্ট প্রক্রিয়া, যা আজও আমাদের সংবেদনশীল স্নায়ুতন্ত্রের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে প্রমাণ করে।

