× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মির্জা হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

খাটের নিচে কে?

মির্জা হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

খাটের নিচে কে?

গভীর রাত। জানলার বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। আমি কম্বলটা টেনে ঘুমানোর চেষ্টা করছি। এমন সময় অনুভব করলাম খাটের নিচ থেকে একটা বরফ-শীতল হাত বেরিয়ে এলো। হাতটা হিমশীতল, যেন ফ্রিজ থেকে বের করা হয়েছে! সেই হাতটা খপ করে আমার গোড়ালি চেপে ধরল।

রূপকথার কোনো গল্পে এমন হলে রাজপুত্ররা তরবারি বের করে, কিন্তু আমার তখন নড়ার শক্তিও নেই। তবে ভয়ে নয়, ক্লান্তিতে! আজ স্কুলে টানা পিটি ক্লাস হয়েছে। আবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচে আমি একাই পুরো মাঠ তিনবার চক্কর দিয়েছি। পা দুটো এত ব্যথা হয়ে আছে যে, আমার নিজের পা বলে মনেই হচ্ছে না।

আমি একটা লম্বা হাই তুলে পাশ ফিরে শুয়ে বিড়বিড় করে বললাম, ‘উফ! ভাই রে, হাত যখন বের করেছিসই, একটু পা-টা টিপে দে তো।’

খাটের নিচে থাকা প্রাণীটি মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল। কয়েক সেকেন্ড তার কোনো নড়াচড়া নেই। সে বোধহয় ভাবছিল আমি ‘মাগো-বাবাগো’ বলে চিৎকার করে পাড়া মাথায় করব, তখন সে ভয়ংকর একখানা হাসি দেবে। কিন্তু তার বদলে তাকে কি না দেওয়া হচ্ছে পা মাসাজ করার ডিউটি!

খানিকক্ষণ পর ঘড়ঘড়ে গলায় একটা শব্দ এলো, ‘ভয়... পাচ্ছিস না?’

আমি চোখ বুজেই উত্তর দিলাম, ‘ভয় পাওয়ার সময় কোথায়? কাল আবার অঙ্ক পরীক্ষা, তার ওপর এই পায়ের ব্যথা। তুই বরং ওই গোড়ালির দিকটায় একটু জোরে চাপ দে তো। তোর হাতটা তো বেশ ঠান্ডা, আইসপ্যাকের মতো কাজ দিচ্ছে। বেশ আরাম লাগছে!’

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, খাটের নিচ থেকে সেই অদ্ভুত হাত দুটো এবার সত্যি সত্যি কাজ শুরু করল। বেশ ছন্দ মিলিয়ে সে আমার পায়ে মালিশ করে দিতে লাগল। আমি আরামে চোখ বুজে বললাম, ‘হ্যাঁ, ওই তো! বাঃ, তুই তো বেশ কাজের রে! নাম কী তোর? আমাদের স্কুলের স্পোর্টস টিমে ভর্তি হবি নাকি? তোর যা ঠান্ডা হাত, চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের খুব কাজে আসবি।’

ভূতটা একটু থতমত খেয়ে বলল, ‘আমি... আমি তো ভূত। ভয় দেখানোই আমার কাজ। আমি কোনো খেলা করতে পারি না।’

আমি বললাম, ‘পুরোনো অভ্যাস ছাড় তো! ভয় দেখিয়ে কী হবে? আজকাল মানুষ অত ভয় পায় না।’

দশ মিনিট পর আমার পা একেবারে হালকা হয়ে গেল। আমি তখন গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি পায়ের ব্যথা একদম নেই। জানালার রোদে হাসতে হাসতে ভাবলাম, সব ভূত বোধহয় খারাপ হয় না, কিছু কিছু ভূত বেশ ভালো ফিজিওথেরাপিস্টও হয়!

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!