× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম

ব্যাংক ডেস্ক থেকে বিসিএস ক্যাডার

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম

ব্যাংক ডেস্ক থেকে  বিসিএস ক্যাডার

‘সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়, বরং এক নিরন্তর যাত্রাÑ যেখানে প্রতিটি অর্জন নতুন স্বপ্নের সিঁড়ি তৈরি করে।’ নাহিয়ান হাসান শ্রাবণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে গত তিন বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম আর ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বর্তমানে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে ‘অফিসার জেনারেল’ হিসেবে কর্মরত। তবে কর্মজীবনের এই ব্যস্ততার মাঝেও তার লক্ষ্য স্থির। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বা আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের হাতছানি উপেক্ষা করে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন এক বৃহত্তর সেবার ব্রতেÑ তার আজন্ম লালিত স্বপ্ন ‘বিসিএস ক্যাডার’ হওয়া। দুবার বিসিএস ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শ্রাবণ বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রত্যয় আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অবস্থানে থেকেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যস্ত রুটিন সামলে বিসিএস জয়ের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্প শুনব আজ তারই মুখে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিনহাজুর রহমান নয়ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালেই কি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নটি দানা বেঁধেছিল, নাকি স্নাতক শেষ করার পর এটি আপনার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা যখন শেষ পর্যায়ে তখন থেকেই সরকারি চাকরির প্রতি ঝোঁক বাড়তে থাকে। এই সময় শখ করে মডেলিংও করা হয়েছিল কিছু ফ্যাশন ব্র্যান্ডের।

একজন ম্যানেজমেন্টের ছাত্র হিসেবে করপোরেট ক্যারিয়ারের হাতছানি উপেক্ষা করে কেন সিভিল সার্ভিস বা বিসিএসকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বানালেন?

যারা ক্যাডার সার্ভিসে আছেন, তাদের কর্মপরিধি, লাইফস্টাইল ও দেশের প্রতি, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার উপলব্ধি থেকে বিসিএসের লক্ষ্য হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বা আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার পরও জনতা ব্যাংককে বেছে নেওয়া কি বিসিএস প্রস্তুতির অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার জন্য ছিল?

প্রস্তুতি ছাড়া বিসিএস চিন্তাই করা যায় না। বর্তমানে বিসিএসেই সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা হয় বাংলাদেশে। কঠিন পরিশ্রম, স্মার্ট পড়াশোনা ছাড়া এই লক্ষ্য সহজে হাতছানি দেয় না।

জনতা ব্যাংকের ‘অফিসার জেনারেল’ হিসেবে কর্মব্যস্ত দিনের শেষে বিসিএসের বিশাল সিলেবাস শেষ করাটা আপনার জন্য কতটা কঠিন? আপনি সময় ব্যবস্থাপনা কীভাবে করেন?

ব্যাংকে অফিস ডেস্ক জব হওয়ায় বাসায় গিয়ে নিজেকে সময় দেওয়া ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া যায়।

ব্যাংকিং সেক্টরের কাজের অভিজ্ঞতা কি আপনার বিসিএস ভাইভা বা সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতিতে কোনো বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে?

বর্তমানে বাংলাদেশের চাকরির বাজার সব জায়গা প্রতিযোগিতামূলক। সঠিক গাইডলাইন ও প্রত্যয় থাকলে যেকোনো জবে থেকেই স্বপ্ন পূরণ করা যায়, যদি সেরকম পরিস্থিতি অনুকূল থাকে। তা ছাড়া প্রতিনিয়ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। যতটুকু সময় পাওয়া যায় তা সঠিকভাবে পড়াশোনায় ব্যয় করলে একসময় হবেই।

২০১৯ থেকে এই পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াইয়ে অনেক চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, কিন্তু ‘ক্যাডার’ হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি থামছেন না - এই অদম্য জেদ বা সংকল্পের পেছনে মূল চালিকাশক্তি কোনটি?

যদিও এ পর্যন্ত বিসিএসে দুবার ভাইভা দিয়েছি। আপনি যেকোনো চাকরিতে থাকলে সে রিলেটেট প্রশ্ন কর্তৃপক্ষ করতে পারে সেটা আসলে তাদের ওপর নির্ভর করে। তবে সব বিষয় ধারণা থাকাটা জরুরি।

দীর্ঘ সময় সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক সময় হতাশা আসে। আপনার ক্ষেত্রে যখন বিসিএসের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে দেরি হচ্ছে, তখন নিজেকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে কী করেন?

সবার টাইম জোনই আলাদা, কেউ আগে হবে আবার কেউ পরে হবে। হতাশা থাকবেই, তবে নিজেকে চাঙ্গা রাখতে যারা ক্যাডার হয়েছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করি, তাদের পরামর্শ শুনি। এমনকি তাদের কর্মপরিধি ও জীবনধারা দেখলে নিজের প্রতি ভালোলাগা কাজ করে।

চালিকাশক্তি আসলে নিজের কাছেই। আমি না পারলে অন্য কেউ হয়তো আমার স্বপ্নটা পূরণ করবে। তা হলে আমি কেন করব না। আর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকাটা জরুরি।

বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার ক্ষেত্রে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি, যা আপনি বর্তমান ব্যাংকিং পেশায় থেকে করতে পারছেন না?

দেশ সেবায় কাজ করার জন্যই বিসিএস খুবই ভাইটাল। এখানে সরাসরি ফ্রন্ট লাইনে থেকে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা যায়।

দেশের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষের ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করার চিন্তা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক দায়িত্ব পালন তো আছেই।

যারা বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত থেকে বিসিএসের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার বিশেষ পরামর্শ বা ‘সাকসেস স্ট্র্যাটেজি’ কী হতে পারে?

সিলেবাসের মধ্যে শুধু না থেকে দেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিষয়ে  নিজেকে আপডেট রাখা।

‘স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া - আপনার জীবনের এই দর্শনটি তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কীভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারে?

স্বপ্ন পূরণ এটা আসলে একটা লক্ষ্য নয়, এটা একটা জার্নি। একেক পর্যায়ে মানুষের লক্ষ্য একেক রকম হয়, তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই, নিজের পরিধির মধ্যে থেকেও অনেক কিছু করা যায়। তবে সুযোগ থাকা পর্যন্ত নিজেকেও সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত রাখতে হবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!