× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৫:৪৮ এএম

উৎপাদন বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করবে বিএসইসি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৫:৪৮ এএম

উৎপাদন বন্ধ কোম্পানির শেয়ার  লেনদেন বন্ধ করবে বিএসইসি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, বিশ্বের কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করতে দেওয়া হয় না। তাই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও উৎপাদন বন্ধ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে, বিগত কমিশন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।

তবে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। তার মধ্যে পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সহজ করবে। ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ বাড়ানো হবে, মার্জিন ঋণের বিধিমালা শিথিল করবে। টি+১ সেটেলমেন্ট চালু করা বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালু করতে চায় বিএসইসি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় এর মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষমতা আরও বাড়ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হবে। মিউচুয়াল ফান্ড শক্তিশালী না করলে দেশের পুঁজিবাজারও শক্তিশালী হবে না। কারণ অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারীর পক্ষে ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন। তাই বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডের বিধিমালায়ও পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি জানান, মার্জিন ঋণ এবং পাবলিক ইস্যু বিধিমালাও সংশোধন করা হবে। বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণকেই সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাসুদ খান বলেন, ভবিষ্যতে ইউনিলিভার ও ইনসেপ্টার মতো বড় কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমান মার্জিন ঋণ নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরও সহজ হবে। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় লন্ডনে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তালিকাচ্যুতি ঠেকাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে শেয়ার লেনদেনের পর নিষ্পত্তিতে সময় কমানো হবে।

বর্তমানে দুই দিনে লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। এটি কমিয়ে টি+১ অর্থাৎ, এক দিনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাসুদ খান। 

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বন্ড বাজার সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলো মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন।

ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খান বলেন, ‘কর্মী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির ক্ষমতা ডিএসইর নিজস্ব। এ বিষয়ে বিএসইসির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে বিএসইসি থেকে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি সমাধান হবে। তিনি বলেন, আমি বহুজাতিক কোম্পানি থেকে এসেছি। আমরা কাজের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পরিকল্পনায় এবং ২০ শতাংশ বাস্তবায়নে ব্যবহার করি। বিএসইসিতেও যোগদানের আগে তিন মাস এই বাজার নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।’

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ও পাস হওয়া বাজেটে পার্থক্যগুলো এসেছে। এটি কি আলাদিনের চেরাগ? না। এটির জন্য পেছনে থেকে আমাদের অনেক কাজ করতে হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড বড় না করলে বাজার এগোবে না। রিটেইল ইনভেস্টরের পক্ষে তো ভালো শেয়ারের জ্ঞান নেই। বিদেশে একটি লাইসেন্স অ্যানালাইসিস থাকে। আমরা এটির আদলে ফাইন্যান্সিয়াল পরামর্শক সনদ দেব। ভারতে দেখবেন একটি পানের দোকানেও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। আমার প্রধান টার্গেট ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ইস্যু রুলস এবং পাবলিক ইস্যু রুলস পরিবর্তন করতে হবে। বাজার ঠিক করতে হলে এগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

একটি কোম্পানি কেন আইপিওতে আসে না। তাদের এক বস্তা কাগজ দিতে হয়। এ ছাড়া দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ব্যাংকে গেলে দ্রুত সময়ে অর্থ পান উদ্যোক্তারা। তাই আমরা আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করব। আমাদের এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতেই হবে। শেয়ারবাজারের অপরাধীদের জেল ও আর্থিক জরিমানা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

কারণ বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা ও শাস্তি দিলেও তা আদালতে আটকে যায়। এ কারণে বিগত কমিশন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ সমস্যা সমাধানে বিএসইসি এরই মধ্যে আদালতে বিশেষ বেঞ্চ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া শেয়ারবাজার-বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ড মার্কেট সক্রিয় করতে আগামীতে বন্ডকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের পরিবর্তে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া ডেরিভেটিভ চালুর জন্য বিএসইসি সক্রিয় রয়েছে। এটা চালু করতেই হবে।

মাসুদ খান বলেন, ‘এটি এমন একটি জায়গা, যারাই এসেছেন, তারাই কলঙ্কিত হয়েছেন। এ জন্য আমি প্রথমে দায়িত্ব নিতে চাইনি। পরে যখন দেখলাম এই সরকার ক্যাপিটাল মার্কেট-বান্ধব। আর আমাকে যিনি এই পদে আসতে বললেন, তিনি জানালেন যে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব। অর্থাৎ, বর্তমান সরকারকে পুঁজিবাজারবান্ধব মনে হওয়া এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। বিএসইসিতে যোগ দেওয়ার আগেই প্রায় তিন মাস ধরে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে কাজের পরিকল্পনা করেছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!