ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্পিকার পদে আলোচনায় মঈন খান

মাইনুল হক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০২:২৬ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এর মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও রয়েছেন। নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিল তার নাম। এমনকি গণমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে যত অনুমাননির্ভর তালিকা বেরিয়েছেÑ এর সব কটিতেই ছিল মঈন খানের নাম। কিন্তু শেষমেশ কোনো আলোচনা, কোনো অনুমানই সত্যি হয়নি। তিনিসহ বেশ কজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। এরপর থেকেই নিজ নির্বাচনি এলাকাসহ রাজনীতির ময়দানে তাদের নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব আলোচনাজুড়ে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাগ্য। ড. মঈন খানকে নিয়েও আলোচনার ডালপালা বিস্তৃত হচ্ছে। এবার রাজনীতির মাঠে জোর গুঞ্জন, মঈন খানকে সংসদের স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানোর কথা ভাবছে দলের হাইকমান্ড। বিভিন্ন দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে নতুন সরকারে স্পিকারের দায়িত্বে দেখতে চাইছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতারা।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সংসদ গঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে একের পর এক রাজনৈতিক আলাপ‑আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। বিরোধ দলের সঙ্গে সমন্বয়, সাংবিধানিক দায়িত্ব ও পার্লামেন্টের কার্যক্রম পরিকল্পনার মধ্যে স্পিকারের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তাই দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় স্পিকারের পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশ জোরালোভাবে স্থান পাচ্ছে। ড. মঈন খান বিএনপি নেতা ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের ছেলে। বাবার হাত ধরেই তিনি রাজনীতিতে আসেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। এর আগে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে তথ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী (১৯৯৩-৯৬), বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী (২০০২-০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি অর্জন করেন।

দলীয় নেতা ও বিশ্লেষকরা বলেন, স্পিকার পদটি শুধু সংসদ সূত্রে আইন ও অনুষ্ঠান পরিচালনা নয়, বরং বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক, সংসদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও পার্লামেন্টের মর্যাদা রক্ষায় একটি বড় ভূমিকা পালন করে। এই কারণে অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে এ দায়িত্বে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকার যেহেতু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, সেক্ষেত্রে সংসদের কার্যক্রমকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করার জন্য একজন অভিজ্ঞ নেতাকে স্পিকারের পদে বসানো হবে। দলের অভ্যন্তরীণ খসড়া আলোচনায় এই মাপকাঠি থেকেই ড. আবদুল মঈন খানের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের নেতা বলেছেন, আমরা সরকারের পাশাপাশি সংসদের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করছি। স্পিকার পদের জন্য আমরা এমন একজন নেতাকেই বিবেচনা করছি, যিনি দলের নীতি, সাংবিধানিক অর্জন ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে সক্ষম। এসব আলাপ-আলোচনায় সুনির্দিষ্ট কোনো ফল বেরিয়ে না এলেও ড. মঈন খানকে নিয়ে যে আলোচনাÑ এর কিন্তু গভীরতা রয়েছে। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। সেই অধিবেশনেই নির্বাচিত হবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। তখনই খোলসা হবে কে হলেন স্পিকার। এছাড়াও জানা গেছে, স্পিকার পদের জন্য আরও দুজনের নাম সামনে রয়েছে। তারা হলেন- বরিশাল-৩ থেকে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবদিন এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক।

তবে ড. মঈন খানের নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত বলে তার দলীয় ও পরিবার ঘনিষ্ঠরা আভাস দিয়েছেন। এই দিকে ডেপুটি স্পিকার পদে নিয়োগ নিয়েও নানা রটনা রয়েছে রাজনীতির ময়দানে। এই পদের জন্য তিনজনের নাম ঘুরে-ফিরে সামনে আসছে। তারা হলেন, নোয়াখালী-৪ থেকে নিবাচিত সংসদ সদস্য আশরাফউদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং নোয়াখালী-১ থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এই তিনজনের মধ্যে শেষমেশ কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে বলা মুশকিল। তবে তিনজনই দলে ও দলের বাইরে সমান জনপ্রিয়। এ ছাড়া সরকারদলীয় চিফ হুইপ নিয়ে চারদিকে সরব আলোচনা রয়েছে। এই পদের জন্য এখনো পর্যন্ত দুজনের নাম ঘুরেফিরে সামনে আসছে। তারা হলেন, নোয়াখালী-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বরকতুল্লাহ বুলু।

জয়নাল আবেদীন ফারুক ছয়বারের সংসদ সদস্য। নবম জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ছিলেন। তাই এবার সরকারদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে সর্বাগ্রে তার নাম আলোচনায় রয়েছে। অপরদিকে বরকতুল্লাহ বুলু পাঁচবারের সংসদ সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। এবারও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির আলোচনায় ছিলেন তিনি। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় এবার সঙ্গত কারণেই তার নাম চিফ হুইপের তালিকায় রয়েছে এবং সর্বাধিক আলোচনায় স্থান পেয়েছে।