ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কাতারে জরুরি সতর্কতা

ই এম আকাশ, কাতার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০১:৩১ এএম

মিসাইল হামলার পর কাতারে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতার সরকার নাগরিক ও প্রবাসীদের মোবাইলে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে। এই বার্তায় সবাইকে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। এদিকে কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ হট লাইন-৩৩৬৬২০০০ চালু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত শনিবার দুই দফায় কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এর আগে সকালে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এরপরও ওইদিনই কাতারে দুবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে দেশটিতে বেড়েছে উদ্বেগ, সঙ্গে সতর্কতা। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাতার সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলমান যুদ্ধের কারণে কাতারে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তাদের সর্বতো সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এদিকে যুদ্ধের মধ্যে অনেক প্রবাসী কাতারে ছোড়া মিসাইল অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটিতে পড়লে তাতে পানি ঢালছেন। কেউ তৈরি করছেন টিকটক। অনেকে দিনরাত ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাতারের অলিগলি। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে কাতার পুলিশ। এ পর্যন্ত বিভিন্ন শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ১৯৪ জনকে।

কাতার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক বলেন, কাতার সরকার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা আমরা মেনে চলছি। এ কারণে আমাদের বিভিন্ন সংগঠনের ইফতার মাহফিল বন্ধ রয়েছে। আমি বলব, কাতারপ্রবাসীরা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।

কাতারপ্রবাসী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার আক্তার জামান মামুন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে কাতারপ্রবাসীরা গুজব ছড়াচ্ছেন, এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কাতারের ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী বেলায়েত হোসেন আরজু বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে চলছি। এতে ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে, সরকার সব ইভেন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা ইফতার মাহফিল ও ইফতার পার্টি  করতে পারছি না। তারপরও আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে চলছি।

কমিনিউটি নেতা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, কাতারের আমিরকে ধন্যবাদ। কারণ তারা আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য বড় সুসংবাদ। তিনি সবাইকে কাতারের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।