× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

সন্দেহজনক হামে মৃত্যু ৪৩৯ শিশুর

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হাম

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হাম

দিনে দিনে কমবে তো দূরের কথা, প্রতিদিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে হাম। শুধু চলতি মাসের মাত্র ১৪ দিনেই নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। আর সন্দেহজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। এতে করে গত ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৩৯ শিশুর। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭০ শিশুর। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে আরও সাত শিশু। আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জন। হামে মোট আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ৩০৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯২ জন এবং আক্রান্ত ২৯ হাজার ৪৮১ জন। হাম সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ টিকাদানে ব্যর্থতায় দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এভাবে নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যু কাঁদাচ্ছে সারা দেশের মানুষকে।

বিশ্বজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় সাফল্য সত্ত্বেও কিছু রোগ বারবার ফিরে এসে আমাদের জনস্বাস্থ্যকাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। হাম তেমনই একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি, যা বর্তমানে বাংলাদেশে পুনরায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি বাংলাদেশকে হামের ক্ষেত্রে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বারবার সতর্ক করে আসছিল যে, বিশ্বব্যাপী হামের প্রকোপ বাড়তে পারে। তার পরও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকাদানে করা হয়েছে অনীহা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইউনিসেফের একটি চিঠি অনুযায়ী সংস্থাটি এ ব্যাপারে সতর্কও করেছিল অন্তর্বর্তী সরকারকে। ইউনিসেফ দাবি করে, ১৯৭৪ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আন্তর্জাতিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই তারা তাদের কাজের কেন্দ্রে টিকাদানকে রেখেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিটি শিশু সে যেখানেই থাকুক, যেন জীবন রক্ষাকারী টিকা পায়। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকেই ইউনিসেফ সরকারকে ব্যাপক কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে, যাতে প্রতিটি শিশু জীবন রক্ষাকারী টিকা পায়। এর জন্য তারা বৈশ্বিক ক্রয়ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততাকে একত্র করে। বাংলাদেশে এই অংশীদারত্ব বড় বড় সাফল্য এনে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পোলিও নির্মূল, নতুন টিকা চালু এবং ধারাবাহিকভাবে টিকাদানের উচ্চ হার। ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কথায় পাত্তা না দিয়ে ২০২৫ সালে ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয় প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত দেরি হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। আর এ সিদ্ধান্তের ফলেই টিকা সংগ্রহে দেরি হয়।

তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধুরী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, হাম একটি মরবিলিভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস বাতাসে প্রায় দুই ঘণ্টা ভেসে থাকে এবং আশপাশের অনাক্রম্য মানুষ সহজেই সংক্রমিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর ‘আরও’ বা সংক্রমণক্ষমতা ১২-১৮। অর্থাৎ, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আরও ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। বর্তমানে এত বেশি সংক্রমণ হওয়ার কারণ হলো, একজন আক্রান্ত শিশু তার চারপাশের অন্তত এক ডজন বা তার বেশি সুস্থ কিন্তু টিকা না নেওয়া শিশুকে আক্রান্ত করতে সক্ষম। মূলত কোভিডের সময়কালীন থেকেই টিকাদানে অনিয়মিত একটা পরিস্থিতি তৈরি হয় দেশজুড়ে। আর অন্তর্বর্তী সরকার তো পুরোপুরি বন্ধই করে দেয় টিকাদান কার্যক্রম। ফলে আমাদের মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এত শিশুর মৃত্যু দেখতে হচ্ছে, যারা পৃথিবীর আলো-বাতাসই ঠিকমতো দেখতে পায়নি।

বিয়ের ১১ বছর পর ফারজানা ইসলাম প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন। মাত্র ৮ মাস ১৮ দিন বয়সি তাজিম গত ২২ এপ্রিল মারা যায় হামে। এত সাধনার সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা ফারজানা ইসলাম-হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির কান্না কাঁদিয়েছে সারা দেশের মানুষকে। তাদের এই সন্তানের জন্ম হয়েছিল টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ পদ্ধতিতে। এতে নারী ও পুরুষের প্রজনন কোষ সংগ্রহ করে একটি টেস্টটিউবে নিষিক্ত করা হয়। তারপর নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ভ্রƒণকে মায়ের জরায়ুতে স্থানান্তরের মাধ্যমে গর্ভধারণ নিশ্চিত করা হয়। পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল। ঝুঁকিও ছিল অনেক। সন্তানের জন্মের পর তাজিমকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন এই দম্পতি। সব শেষ গেল হামের সংক্রমণে। ফারজানা ফেসবুকে কখনো ছেলের পায়ের ছবি বা কখনো অন্য কোনো স্মৃতির কথা লিখে চলেছেন। তাজিমের হামের জন্য প্রথম ডোজের টিকা পাওয়ার তারিখ ছিল ১ মে। তার আগেই সে মারা যায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারজানা বলেন, দুই মাস ধরে নিষ্পাপ শিশুরা মরে যাচ্ছে, এ নিয়ে সংসদে আলাপ নেই। কারও কোনো দায় নেই। কেউ ব্যর্থতা স্বীকার করছে না। সব দোষ মা ও শিশুর। শিশুরা এই দেশে জন্ম নিল কেন? মা সন্তানের জন্ম দিল কেন?

তাই হামে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত, টিকা কেনায় অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। গত বুধবার এক সমাবেশে এ দাবি করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী হামে মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল টিকাদান কর্মসূচি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষা খাতে বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত থেকেছে।

এদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অবহেলার অভিযোগও তোলে সংগঠনটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। জাবের বলেন, শুধু গত ১০ দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় রোগীদের জন্য আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে হামে আক্রান্ত হাজারো শিশুর জন্য কোনো বিশেষ হাসপাতাল বা ডেডিকেটেড চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা জারি এবং সর্বদলীয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জাতীয় কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এদিকে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সহযোগিতায় ঢাকার হাসপাতালগুলোতে হেল্পলাইন চালু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)। সংগঠনটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. শাদরুল আলম ও সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদের উদ্যোগে এ হেল্পলাইন চালু করা হয়। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, এতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডা. মো. জুলফিকার (০১৭১০৪৯৮৯০৯) ও ডা. মাশুক (০১৮৩৫৫১২৫৫০), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. সাইয়েদ (০১৭০৬৫২০৯৮৭) ও ডা. সানি (০১৫৫৮৯৫৯৬৫০), মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন (০১৬০৮০৭৩৬৪২) ও ডা. মাজহারুল ইসলামের (০১৫৪০৭৫২৪৮৭) সঙ্গে তাদের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও আশপাশের হাসপাতালের ক্ষেত্রে ডা. তন্নী শেখ (০১৯৯৯৩৯৮৭৭৯), ডা. আল আমিন (০১৭১৮৬৬২৪৬৩), ডা. হাবিব (০১৫৩৩-৭৯৪৭৪৪), ডা. তাওফিক ইমনের (০১৩১০৯৩৮৫৭৩) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, ঢাকা ডিএনসিসি হাসপাতালে ডা. মো. মনিরুজ্জামান (০১৭৭০৫৯১৫২৯) ও ডা. উসামা (০১৮২৬৭১১৯২৪) এবং ডা. এমআর খান শিশু হাসপাতালে (মিরপুর-২) ডা. আশিকুর রহমান শুভর (০১৬৭৬৫৬৫১১৮) সঙ্গে তাদের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামকে পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি বলা হয়। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪ কোটি শিশু তাদের হামের ডোজ মিস করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’। বাংলাদেশেও ইদানীং বিভিন্ন এলাকায় হামের ক্লাস্টার সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ২০২৫ থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা বাড়লে একটি বড় প্রাদুর্ভাব অবশ্যম্ভাবী। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা এবং উপকূলীয় দুর্গম অঞ্চলগুলোয় এই ঝুঁকি বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, যদি দেশের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের দুই ডোজ টিকার আওতায় না আনা যায়, তাহলে আমরা একটি বৃহত্তর মহামারির মুখোমুখি হতে পারি। হাম কেবল একটি রোগ নয়, বরং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পঙ্গু করে দেয়, যাকে বলা হয় ‘ইমিউন অ্যামনেশিয়া’।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সম্প্রতি শিশুরা কেন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তার পেছনে গভীর মাইক্রোবায়োলজিক্যাল কারণ রয়েছে। জন্মের পর শিশু মায়ের শরীর থেকে অর্জিত নিষ্ক্রিয় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। কিন্তু ৬ থেকে ৯ মাস বয়সের পর এই সুরক্ষার মাত্রা কমতে শুরু করে। ঠিক এই সময়েই প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া জরুরি। কিন্তু বিগত কয়েক বছর তা থেকে বঞ্চিত ছিল আমাদের শিশুরা তাই বর্তমানের এই বিস্ফোরণ। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।

জার্নাল অব ইনফেকশাস ডিজিজেসের একটি গবেষণা বলছে, অপুষ্টির শিকার শিশুরা, বিশেষ করে যাদের শরীরে ভিটামিন ‘এ’র ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হামের ভাইরাস অতি দ্রুত শ্বসনতন্ত্রের এপিথেলিয়াল কোষকে আক্রমণ করে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পরিণত না হওয়ায় তারা ভাইরাসের প্রোটিনগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। ফলে জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি অন্ধত্বের ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!