দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খুব একটা স্বস্তিতে নেই বিএনপি সরকার। সঙ্গে ছিল বৈশি^ক জ্বালানি সংকট আর আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা। তারপর ‘হানিমুন পিরিয়ড’ পার হওয়ার আগেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ‘বেফাঁস মন্তব্যে’ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিব্রত সরকার। ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রিসভায় আসছে বড় রদবদল। সরকারপ্রধান অনেককেই নজরদারিতে রেখেছেন এবং সরকারের বিশেষ গোয়েন্দারা এসব বিষয়ে কাজ করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সরকারকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর তথ্য দিয়েছেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের তথ্য রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারপ্রধান কাজ করছেন এবং মন্ত্রিপরিষদে বড় ধরনের রদবদল আসছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ যুক্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছে বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক নেতা বলেন, মন্ত্রীদের অতি উৎসাহী বক্তব্যে দল বিব্রত। বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি এড়ায়নি। অনেকের ওপর হয়তো অধিক দায়িত্বের বোঝা চেপে আছে। সঙ্গত কারণেই বেশ কিছু মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, যাদের হাতে দুই থেকে তিনটি মন্ত্রণালয় রয়েছে তাদের ক্ষমতা কমবে।
মন্ত্রিসভা থেকে কেউ বাদ পড়ছেন কিনা এমন প্রশ্নে সরাসরি জবাব না দিয়ে বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, এসব বিষয়ে কথা বলা যাবে না। তবে রদবদল হচ্ছে। তবে খুলনা বিভাগের এক প্রতিমন্ত্রী সম্ভবত মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ পড়তে পারেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের এক মন্ত্রী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, বেশ কয়েকজন হয়তো রদবদল অথবা বাদ পড়তে পারেন। আবার সরকারপ্রধান না চাইলে অথবা সময় সংকেত দিয়ে তাদের সতর্কও করতে পারেন। তবে এটা ঠিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সরকার থেকে বাদ পড়ছেন অনেকেই, আবার দলীয় পদ হারাতেও পারেন কেউ কেউ।
বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও ড. এনামুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে।
মন্ত্রীদের ‘বেফাঁস মন্তব্য’ ও দুর্নীতির তথ্য : গত ৫ মে গ্রামে লোডশেডিং নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘গ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই, যেটা হয় সেটা পল্লীবিদ্যুতের লম্বা লাইনের জন্য। কারণ সেখানে ত্রুটি হলে খুঁজে সংস্কার করতে সময় লাগে। এ জন্য বিদ্যুৎটা আসে না। আবার লাইন ঠিক হয়ে গেলে বিদ্যুৎ চলে আসে।’ গরমে তীব্র লোডশেডিংয়ে গ্রাম এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভেরও জন্ম দেয়। অনেকে এটিকে গ্রামের মানুষের কষ্টের সঙ্গে মশকরা বলেও অভিহিত করেন। এর আগে সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের একটি বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি বলেছিলেন, পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে টাকা তোলাকে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত সংগঠন পরিচালনার জন্য একটি ‘সার্ভিস চার্জ’। সড়কে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ গাড়িচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়। ঈদুল ফিতরের আগেও ‘ঈদযাত্রায় কোথাও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না’ বক্তব্য দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সড়কমন্ত্রী। গত ১৫ মার্চ রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘কোথাও কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০, ৩০ বা ৫০ টাকা কম নেওয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর সাধারণ যাত্রী, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। সে সময় সাধারণ যাত্রীরা প্রতিটি রুটেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
এদিকে ‘এই তোমরা কেমন আছো? ভালো? পড়ালেখা করো তো? করতে হবে, নকল আর হবে না।’ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক ট্রল হয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় অতীতের মতো নকলের কোনো সুযোগ না থাকলেও, মন্ত্রীর গৎবাঁধা বক্তব্যে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
কোণঠাসা প্রবীণ বিএনপি নেতারা আলোচনায় : দলের যে প্রবীণ নেতারা বিগত দেড় যুগ ধরে বুক চিতিয়ে দলকে আগলে রেখেছিলেন, তাদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ছয়জন পূর্বে বিএনপি সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রথম দফার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি। প্রবীণ নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্পিকার করে কার্যত দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতার ভাষায়, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চেয়ারম্যান নিজেই বয়স্কদের অবসরে পাঠাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের আভাস পেয়ে খোদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বয়সের কারণ দেখিয়ে শিগগিরই অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বয়স বাড়ছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছি। এখন একটি পরিবর্তন দরকার।
দলের অনেক ত্যাগী নেতার অভিযোগ, দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলে ত্যাগের স্বীকৃতি মিলবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও সরকার গঠনের পর তাদের ভাগ্য বদলায়নি। বরং আন্দোলনের সময় যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিচ্ছে।
ত্যাগী নেতাদের বঞ্চনার অন্যতম উদাহরণ দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্মমহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা রিজভীকে মন্ত্রী না করে কেবল উপদেষ্টা করায় অনেকেই বিস্মিত। সাড়ে চারশ মামলার আসামি হাবিব উন নবী খান সোহেল দীর্ঘ সময় কারাগার ও আদালতে কাটালেও তাকে এখনো কোনো পদে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিন শতাধিক মামলার আসামি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিনা চিকিৎসায় তার একটি কিডনি অকেজো হয়েছে। ২০০১ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ আলাল এখনো শরীরে গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। মায়ের মৃত্যুর সময় কারাগারে থাকায় শেষবার মায়ের মুখটাও দেখতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও সরকারে তাকে মূল্যায়ন না করায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
অবশ্য আলাল এখনো আশাবাদী। তিনি বলেন, তারেক রহমান নিজে আমাদের ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সবকিছু অবগত রয়েছেন। চেয়ারম্যান যথাসময়েই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। সরকারের পাশাপাশি দলের ভেতরেও বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এ বছরের শেষের দিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের সম্ভাবনা : সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের দেখা যাবে। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধি না থাকায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ছয়বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূলের দাবি মেনে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো হেভিওয়েট নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকেও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এর বাইরে হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তরুণ ও উদীয়মান নেতাদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছেন খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল এবং ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্ত্রীদের বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ কামাল খান বলেছেন, রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা একটা বড় ব্যাপার। সব কথা রাজনীতিতে বলা যায় না, কূটনীতির যেমন পরিভাষা আছে রাজনীতিরও তেমনি কিছু পরিভাষা আছে। কোথায় কখন কী বলা উচিত, কী বলা উচিত নয় এসব বিষয়ে কিছুটা ঘাটতি থাকলেই এমন সমস্যা হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেছেন, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেক সময় অনেক কথা বলে ফেলে, তার মধ্যে শব্দচয়নে যদি ছোটখাটো দু-একটা ভুলত্রুটি হয়ে যায়, তা বড় করে দেখার কিছু নেই। মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় নতুন করে কাউকে নেওয়া এবং পুরোনো কাউকে বাদ দেওয়া এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। একটি নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় কখন কাকে মন্ত্রী বানাবে অথবা কাকে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেবে, এটি নিতান্তই প্রধানমন্ত্রীর বিষয়।
‘বেফাঁস মন্তব্য’ ইস্যুতে রাজনীতি বিশ্লেষক মেজর (অব.) ইমরান বলেন, বিরোধী দলের কর্মীরা পিলার নাড়াচাড়া করে রানা প্লাজা ধসিয়ে দিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি, বন্ধ হয়ে গেছে ইত্যাদি নানা মনগড়া প্রলাপ আমরা অতীতে আওয়ামী আমলের মন্ত্রীদের কাছে শুনেছিলাম। কিন্তু ফ্যাসিস্টের পতনের পরও যদি মন্ত্রীদের কাছে এসব শুনতে হয়, তা হলে পরিবর্তনটা হলো কোথায়?
দু-চারজন মন্ত্রীর বক্তব্যে পুরো মন্ত্রিসভা তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে এবং জনগণের মাঝে ভুল বার্তা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, অতিকথন সব সময়েই বিপদ। বিশেষ করে দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অতীতেও আমরা দেখেছি অনেক মন্ত্রী-এমপিকে এই অতি উৎসাহী বক্তব্যের জন্য খেসারত দিতে হয়েছে, কিন্তু দুঃখজনক সত্য হচ্ছে আমরা কেউই অতীত থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর ত্যাগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সবেমাত্র সরকার গঠন হয়েছে। দেশ গঠনের কাজ চলমান। আশা করি একটা সময় কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন