বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনো করবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’Ñ এটা আমরা বলছি। তিনি বলেন, ‘কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে এনগেজ করার কথা বললে কারো কারো কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি।’
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা ‘অপেক্ষায় রেখে হয়রানির’ প্রতিক্রিয়ায় সেখান থেকে দেশে ফিরে আসাকে ‘তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
পরবর্তী সময়ে আমন্ত্রণ পেলে ভারতে যাবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নিশ্চয়ই যাব। আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি। আমি যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে নিশ্চয়ই যাব। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মতভাবে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেজ করতে চাই সমমর্যাদার ভিত্তিতে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা যে জায়গায় ছিলাম, সেখান থেকে তো আমরা নেমেও এসেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে রেখে আমরা এনগেজ করতে চাই, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমাদের আদান-প্রদান নানা ক্ষেত্রে হতে পারে।’
ডা. জাহেদ বলেন, আপনারা জানেন, গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তির নবায়ন নিয়ে কথা আছে। আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের আরও মোট ৫৩টি অভিন্ন নদী আছে। আমাদের অধিকার আছে। সেখানে যদি কোনোভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই, আমি সেটা লুফে নেব।’
দিল্লির বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার বেশি বসিয়ে রাখার ঘটনাকে ‘হয়রানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তার জবাবে আমি যা করেছি, এটা ওই আচরণের একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি চাই, ভারত এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসুক যে তারা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকারের সঙ্গে এনগেজ করছে। আমি যদি কোথাও কোনোভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই, আমন্ত্রণ পাই, নিশ্চয়ই ভারতে যাব।’
ভারত থেকে তার ফিরে আসা ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে তো ওখানে যাইনি। আমি এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নিইনি। আমি দেখেছি, রাষ্ট্রের একটি সরকারের একটি পজিশনের একজন মানুষের সঙ্গে এই আচরণ করা হচ্ছে। সেই কারণেই আসলে ওটা করেছি। সেজন্য এটা ধরে রাখার কিছু নেই।
তিনি বলেন, আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখানে ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট একটি সরকার ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ডিল করা আর জনগণের ব্যাপক সমর্থন থাকা একটি সরকারের সঙ্গে ডিল করা এক বিষয় না। বর্তমান সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। আমরা জনগণের সঙ্গে জনগণের (পিপল-টু-পিপল) সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

