ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনার শুরুতে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
অধিবেশনের শুরুতে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়িয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমাদের সংসদের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসের শারীরিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এই সংসদ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানায়নি। এ ছাড়া সরকারদলীয় আরও দুজন সংসদ সদস্য ঋণখেলাপির মামলায় আটকে রয়েছেন, সে বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। আমাদের জানা দরকার, সংসদ সদস্য হিসেবে তারা এখন কী ভূমিকা পালন করতে পারছেন। এ সময় মির্জা আব্বাসকে নিয়ে ‘শহিদ ওসমান হাদি’ প্রসঙ্গে ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ব্রিফ’ দাবি করেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্যের পরই প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সংসদের ‘চিফ হুইপ’ নুরুল ইসলাম মনি কথা বলার সুযোগ চান। স্পিকার তাকে সুযোগ দিয়ে বলেন, ‘গুজব সম্পর্কে কিছু বলবেন না। এটি নোটিশে অন্তর্ভুক্ত হয় না।’ এরপর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘অনেক বিষয় পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না। আপনি ‘অ্যালাউ’ করেন বলে হতে পারে। তবে না হওয়া ভালো। তিনি মির্জা আব্বাস সম্পর্কে জানতে চাইছেন, আপনি জানাতে পারেন। আর দুজন সংসদ সদস্যের বিষয় আদালতে রয়েছে। আদালত সিদ্ধান্ত দিলেই কেবল চূড়ান্ত হবে। এর আগে এই বিষয়ে কোনো কিছু বলার সুযোগ নেই।’
নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, ‘এগুলো কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার না। তাছাড়া মির্জা আব্বাস আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি এখানে আসবেন। বাকি গুজব নিয়ে জাতীয় সংসদ সময় নষ্ট করতে পারে না। কোনো সংসদ সদস্যের যদি সদস্যপদ চলে যায়, তবে তা যথাসময়ে সংসদ থেকে জানানো হবে।
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে হঠাৎ জ্ঞান হারালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম দ্রুত মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে। তার পর ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা এক মাসের চিকিৎসায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ফিজিও থেরাপির জন্য মির্জা আব্বাসকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি সেখানে আছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন