২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে একজন ব্যক্তির ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য তাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না। এর পরের তিন লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে, তাতে মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা রয়েই গেল। এর আগে করমুক্ত আয়সীমা পার হওয়ার পরের ধাপে ৫ শতাংশ হারে কর ছিল। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশান ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এসব সংশোধনী এনে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের জন্য কর, শুল্ক ও রাজস্বসংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক প্রস্তাবনা এবং নতুন ভ্যাট ও আয়কর হার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। আজ মঙ্গলবার সংসদে পাস করা হবে বাজেট ২০২৬-২৭, যা আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর ও ভ্যাটব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদদের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। এর মধ্যে খুচরা ব্যবসায় প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা করÑ এই পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত ছিল। বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছিল, বছরে ৫০ লাখ টাকার কম বিক্রয় বা টার্নওভার রয়েছে এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট বা ‘স্পেসিফিক’ ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করা হবে। ব্যবসার অবস্থান ও ধরন অনুযায়ী মাসিক এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। তবে এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির আশঙ্কা এবং বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। ব্যবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক ও বিভিন্ন মহলের আপত্তির পর সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। ফলে আগের নিয়মেই টিআইএন ছাড়াই ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে। এ ছাড়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের পর জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি ‘অর্থ বিল-২০২৬’। গতকাল সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি চূড়ান্ত পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটির ওপর সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতি নিয়ে দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের আর্থিক প্রস্তাবগুলো কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধন করতে ‘অর্থ বিল-২০২৬’ সংসদে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব তোলেন।
বিলটি টেবিলে ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বিশাল ঘাটতি বাজেট, কর ও ভ্যাটের বোঝা, ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর থেকে ঋণের আশ্বাসের বাস্তবতার মতো নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিলটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।
সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনা ও প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে অর্থ বিলটি একাধিক সংশোধনীসহ চূড়ান্তভাবে পাস হয়। বিল পাসের পর বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি চরম দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনপ্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সব ধরনের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না, বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ পৃথক করা হচ্ছে এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত একক হারের ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকানগুলোকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে চলতি অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বর্তমানের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
ব্যক্তিশ্রেণি করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা
বাজেট অধিবেশনে করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা। পরে অর্থবিলের সংশোধনীতে সরকারি দলের সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এ নিয়ে প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ফলে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ করবের্ষর জন্য করমুক্ত আয়সীমার সঙ্গে পরবর্তী করধাপেও পরিবর্তন এসেছে। এ সময় করমুক্ত আয়সীমা হবে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত; পরবর্তী ৩ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, এর পরের ৪ লাখ টাকা আয়ের জন্য ১৫ শতাংশ, এর পরের ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং পরের যেকোনো আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ আয়কর বসানো হয়েছে। ৩৫ শতাংশ করহার করার প্রস্তাব এসেছিল প্রস্তাবিত বাজেটেই। এর পরের দুই করবর্ষের জন্য ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে করমুক্ত সীমা সাড়ে চার লাখ করা হয়েছে এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
আবাসন খাতে নেই কালোকে সাদা করার সুযোগ
আবাসন খাতে টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবারের বাজেটে। বলা হয়েছিল, জমির মৌজা মূল্য ও প্রকৃত মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য থাকবে সেই অর্থ কেউ ঘোষণা করলে বিনা প্রশ্নে তা মেনে নেবে এনবিআর। বাজেটে এমন নিয়ম প্রস্তাব করার পর এ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত হন অর্থমন্ত্রী। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে এনবিআর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার আলোচিত বিধানটি পুরোপুরি বাতিলের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিয়মটি নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় তা প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শুধু কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের দাবিই জানাননি, বরং দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বেশকিছু বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন।
ভ্যাটের আওতায় আসছে না ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এই বাজেট বাস্তবায়নে প্রচুর টাকার দরকার। সে জন্য ভ্যাটের আওতা তৃণমূল পর্যন্ত সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাড়তি রাজস্ব আহরণের জন্য মুদি দোকানসহ কম পক্ষে ১৬টি খাতকে নতুন করে ভ্যাটের আওতায় আনার ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সংসদকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর সারা দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তারা যুক্তি দেন, ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনলে সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা আরও বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তা ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনা হলে তা হবে আইনের পরিপন্থি। শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে এনবিআর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়
এবারের বাজেটে ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। বাজেট ঘোষণার পরই বিষয়টির পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা হয়। কারণ, টিআইএন থাকলে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। তাই অনেক মানুষকে করযোগ্য আয় না থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হবে। এতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার এই সময় এমন ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বিষয়টি পরিস্কার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, স্টুডেন্টসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে জনমনে বিভিন্ন কনফিউশন দেখা দিয়েছে। আমি অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাব করব যেন এই বিষয়টিও প্রত্যাহার করা হয়।
ব্যবসার ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ, মোবাইল আর্থিক সেবার মার্চেন্ট হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও যেসব পরিবর্তন
অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তিনি পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকা-ের আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত থাকবে। চিংড়ি খাতকে সহায়তা দিতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ, অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি। দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেন। শিল্পে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি (পিভিসি) ও পিইটি (পিইটি) রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।
এ ছাড়া ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল পণ্যে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম কর বাতিলেরও প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এলইডি বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারে বিদ্যমান ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান কমবে এবং কর পরিপালন বাড়বে। এ ছাড়া সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর পরিপালন সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতাও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন