× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:৪১ এএম

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:৪১ এএম

যেকোনো মূল্যেই তিস্তা  মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আমাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে। যে আস্থা দেশের মানুষ আমাদের ওপর রেখেছে, সেই আস্থা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের স্বার্থ রক্ষায় যেমন আমাদের প্রথম দর্শন সবার আগে বাংলাদেশ, তেমনি দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের দর্শন হলো সবার জন্য বাংলাদেশ। এই দর্শনের ভিত্তিতেই আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করছি।

তিনি বলেন, আমি এই বাজেটকে জীবনবান্ধব বাজেট নাম দিতে চাই। এবারের বাজেটের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে সব নাগরিকের এতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং এর মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সংসদ নেতা বলেন, এবারের বাজেটে সরকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছেÑ দরিদ্র, নি¤œআয় ও ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার বোঝা যতটুকু সম্ভব লাঘব করা। স্বৈরাচারের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অর্থনীতিকে কীভাবে কুচি কুচি করা হয়েছে তা আমরা দেখেছি, এবারের বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

এ ছাড়া বাজেটের অন্যতম তৃতীয় লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে আমি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করে এসেছি। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের পর্যালোচনায় বলেছে, আলোচনার বিষয়গুলো দেখে মনে হচ্ছে এবারের সফরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাংলাদেশ সরকার অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে। তারা সঠিক বলেছেন। আমাদের বাজেটের তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের চাকা সচল করা এবং শুধু সচল নয়, সেটিকে বেগবান করা।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের পানির প্রবাহ নিশ্চিতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে যে অতিরিক্ত পানি আসে, সেই পানি আমরা ধরে রাখব, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকসহ সবার কাছে সেই পানি সরবরাহ করা যায়। এ সময় জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানো’ : এবারের বাজেটকে একটি ‘জীবনমুখী বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সরকারপ্রধান জানান, রাজস্ব সংস্কার, প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা, আর উদ্ভাবনী অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য তিনটিÑ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি এবং একটি নতুন উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা।

সংসদ নেতা আরও উল্লেখ করেন, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা প্রদান এবং দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি বাজেট প্রণয়নে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেই এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কৃষি, ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়াবিদ তৈরি আর টেকসই প্রবাসী শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। জাতির টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করছে সরকার, জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশ পুনর্গঠনে ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ বিকল্প নেইÑ সংসদে প্রধানমন্ত্রী : দেশ পুনর্গঠনে ‘ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের মানুষ আমরা প্রত্যেকে গ্রামগঞ্জে ঘোরা মানুষ, মানুষের সঙ্গে ওঠা-বসা করা মানুষ আমরা। বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী মানুষ, যা আমরা নিজেদের চোখে দেখেছি। আমাদের তরুণ-সমাজ মেধাবী; কৃষকরা উৎপাদনশীল; প্রবাসীরা দেশপ্রেমিক এবং আমাদের উদ্যোক্তারা সম্ভাবনাময়। সুতরাং আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।’

সংসদ সদস্যদের মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়ানোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই মহান সংসদের সব সদস্যকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, এই বাজেট শুধু সরকারের বাজেট হিসেবে নয়, আসুন আমরা সবাই এ বাজেটকে একটি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে দেখার চেষ্টা করি।’ সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি বলতে চাই, আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার; জনগণের কষ্ট লাঘব; আর্থিক খাতে আস্থা ফেরানো; কৃষক, শ্রমিক, তরুণ, নারী ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রশ্নে আমরা সবাই ইনশাল্লাহ ঐক্যবদ্ধ থাকব।

‘সংবিধান সংশোধনে সরকার ও বিরোধী দল এক সঙ্গে কাজ করতে পারে’ : জুলাই সনদকে পথনির্দেশক ধরে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল সংসদের ভেতরে এক সঙ্গে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, সংসদের বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জনমত গড়ে তোলা ও সংস্কারমুখী কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা, কৃষক, শ্রমিক, যুবক ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ আমাদের অঙ্গীকার হোকÑ এই বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের শেকড় গজাতে দেওয়া হবে না এবং কেউ যেন আর কখনো এই দেশকে কোনো পরাশ্রয়ী রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে। নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার এবং সংসদ জনগণের।’

তার এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন সরকারি দলের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি মনোনয়নের বিষয়ে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে প্রতিনিধি দেবে না বিরোধী দল। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা কেবল সংশোধন নয়, সংবিধানের সংস্কার চান।’ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে উন্নয়ন হবে ন্যায়ভিত্তিক, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, রাষ্ট্র হবে জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকদের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।

তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার সম্পদে নয়; বরং সুশাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জনগণের আস্থায় নিহিত। টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি।’ মানুষ এখন ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি রাষ্ট্র চায় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। এই প্রত্যাশা পূরণ করা শুধু বর্তমান সরকারের নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক সঙ্গে কাজ করেই আমাদের তা বাস্তবায়ন করতে হবে,’ বলেন তিনি।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!