প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সুফল পাওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য গত সোমবার থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ও তার প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অবদান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম জুলাই মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে। গতকালই মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি বিএনপি সরকারের জন্য একটি বড় অগ্রগতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে এই বিষয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক সফলতা অর্জন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু মালয়েশিয়া নয়, একে একে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজারের নতুন দুয়ার খুলছে। ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, ওমান এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার। মন্ত্রী শুধু মালয়েশিয়াই নয়, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য, জাপান ও মরিশাসের শ্রমবাজার নিয়েও সুখবর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে সরকার বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও তৎপরতাকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় সচল হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে এবার মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে দীর্ঘ মেয়াদে এই বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমবাজারটি বন্ধ হয় এবং ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হয়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আবার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই শ্রমবাজার আবারও সচল হলো।
২০২৪ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে আটকা পড়া ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার কর্মী ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন এবং অবশিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে সরকার দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন