ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী বললেন

আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৫:৩৬ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আবাসনশিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।’

গতকাল বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল আবাসনশিল্প খাতের ৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যেন আবাসন খাতে অনিয়ম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।’ একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে ড. আলী আফজাল বলেন, ‘সরকার স্বীকৃত একমাত্র আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে রিহ্যাব গত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার ও পরিবহনসহ ৩০০টির বেশি লিংকেজ শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।’

রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছেÑ ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা ও নগরায়ণ বিবেচনায় জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালার যুগোপযোগী সংস্কার; নি¤œ ও নি¤œ-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ; মধ্যবিত্তের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ঋণের বিশেষ স্কিম চালু; নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশ নির্ধারণ; জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার ও ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন এবং জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন করা।