আমাদের বুকের ভেতরে থাকা ছোট্ট ও প্রায় উপেক্ষিত অঙ্গ ‘থাইমাস’ দীর্ঘায়ু অর্জন এবং বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধি জয়ে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ফুসফুসের মাঝে অবস্থিত খুব ছোট আকারের এই অঙ্গটি শৈশবে মূলত রোগপ্রতিরোধক ‘টি-সেল’ তৈরিতে সাহায্য করে। বয়ঃসন্ধির পর এটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বিজ্ঞানীরা এত দিন ভাবতেন, বয়স বাড়ার পর এর কার্যকারিতা বোধহয় আর তেমন থাকে না। তবে সম্প্রতি ইঁদুরের ওপর চালানো এক গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, থাইমাস থেকে নিঃসৃত ‘থাইমুলিন’ নামক এক ধরনের হরমোন বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রদাহ বা ‘ইনফ্লামেজিং’ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেক স্কুল অব মেডিসিনের প্রতিরোধবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ও এই গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ফুমিটো ইতোর মতে, প্রায় ৫০ বছর আগে আবিষ্কৃত হলেও বার্ধক্য প্রতিরোধে থাইমুলিনের ভূমিকা এত দিন অনেকটাই অলক্ষিত থেকে গিয়েছিল। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, থাইমুলিনের মাত্রা বেশি থাকা ইঁদুরগুলোর শরীরে সাইটোকাইন নামক প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিনের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত প্রবীণ ইঁদুরকে বাইরে থেকে থাইমুলিন দেওয়ার পর তাদের শরীরে টিউমারের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং তারা চিকিৎসায় অনেক দ্রুত সাড়া দেয়। মানুষের ওপর এই গবেষণার ফলাফল সফলভাবে প্রমাণিত হলে ক্যানসার ও হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় এবং ক্যানসার ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এই হরমোন ব্যবহারের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। যেহেতু এটি শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি হরমোন, তাই ন্যূনতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বার্ধক্য রোধ ও জীবনের আয়ু বাড়াতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। সূত্র : সায়েন্টিফিক আমেরিকা।

