কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজের প্রায় এক দিন পর বুধবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি পানিতে নেমে নিখোঁজ হন। নিহত কাউসার ইসলাম (৩২) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে কাউসারসহ ৫৬ সদস্যের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ভ্রমণে আসেন। তারা ইটনার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছে নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুরে সেতু-সংলগ্ন ডুবে থাকা সড়কের পাশে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজন সহকর্মী স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার নিজেই পানিতে তলিয়ে যান। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। পরিবারের দাবি, কাউসার সাঁতার জানতেন না।
সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতের টানে ডুবে যেতে থাকলে কাউসারসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও প্রবল স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবারই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা নেমে আসায় সেদিন অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু হলে দুপুর ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসার ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

