ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে ফেরেননি বাকৃবির ১২ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময় শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ফেরেননি ১২ শিক্ষক। শিক্ষা ছুটির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে এসব শিক্ষকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে ৪ কোটি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮০১ টাকা।

বাকৃবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১২০ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি। কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন, আবার কয়েকজন চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। এ ছাড়া সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে কয়েকজনের চাকরির অবসান হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখা সূত্র জানায়, শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে নির্ধারিত শর্তসংবলিত একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়। ওই বন্ড অনুযায়ী, ছুটির মেয়াদ শেষে নিজ কর্মস্থলে ফিরে যোগদান করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে বন্ডের শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

সংস্থাপন শাখার তথ্য অনুযায়ী, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে না ফেরা ১২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাগিদপত্র ও আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কৃষি অনুষদের দুজন, ভেটেরিনারি অনুষদের একজন, পশুপালন অনুষদের তিনজন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একজন এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব শিক্ষকের কাছে মোট ক্ষতিপূরণের দাবি রয়েছে ৪ কোটি ৫১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭৫ টাকা। এর মধ্যে ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৪ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে বকেয়া রয়েছে ৪ কোটি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮০১ টাকা।

বাকৃবির সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. নাজমুল হক বলেন, ‘পিএইচডি করার জন্য একজন শিক্ষককে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়। ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রথমে এক মাস সময় দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর পরও কেউ যোগদান না করলে বন্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের নোটিশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষকেরা বন্ডে স্বাক্ষর করেই শিক্ষা ছুটিতে যান। নির্ধারিত সময় শেষে তাদের ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। কেউ চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধ করেন। তবে কেউ শর্ত ভঙ্গ করে বিদেশে অবস্থান করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে। নিয়মের বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষা ছুটির সুযোগ মূলত শিক্ষক ও গবেষণার মান উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত শর্ত না মানলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি ও জনবল সংকট তৈরি হয়। এ কারণে বন্ডের শর্ত বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।