ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

ওয়ালিয়া খাল খননে অনিয়ম-বৈষম্যের অভিযোগ

ওমর ফারুক খান, লালপুর (নাটোর)
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

নাটোরের লালপুরে ওয়ালিয়া খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক বৈষম্য, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। খাল দখলমুক্ত করার নামে গরিব ও অসহায় মানুষের বসতঘর উচ্ছেদ করা হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ দখল সম্পূর্ণ অক্ষত রাখা হয়েছে। অপরিকল্পিত খনন ও নি¤œমানের কাজের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার ওয়ালিয়া ব্রিজ থেকে খলিশাডাঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র জলপথ। প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এর খননকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে লালপুর উপজেলা প্রশাসন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাস্তবায়নে আছেন ওয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকাজ ওয়ালিয়া ব্রিজ থেকে উদ্বোধন হলেও কাজ শুরু হয় খলিশাডাঙ্গা নদীর দিক থেকে। খালের মাঠসংলগ্ন অংশে অতিরিক্ত গভীর ও প্রশস্ত করে খননের ফলে বসতঘর ও কবরস্থান ঝুঁকিতে পড়ে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হলে এসিল্যান্ড ও জেলা প্রশাসক পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে এর পরেই কাজের ধরনে পরিবর্তন আসে। মন্ডলপাড়া এলাকায় গরিব এক ভ্যানচালকের পাকা ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পর্যাপ্ত খনন না করে কর্দমাক্ত মাটি দুই পাড়ে ফেলে রাখা হয়। ফলে বৃষ্টিতে মাটি ধসে খালে পড়ে পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, কারিগরপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই নামমাত্র খনন করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রভাবশালী দখলদারদের বহাল রেখেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে, টেন্ডারের মাধ্যমে খালের মাটি বিক্রির কারণে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে প্রায় ছয় কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে খালপাড়ের বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া খালের ওপর নির্মিত কয়েকটি অপরিকল্পিত কালভার্ট পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে তিন দিন পিআইও মাসুদুর রহমানের অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন দিলে তিনি বলেন, খাল খনন বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারব না।

জানতে ইউএনও বরকত উল্লাহ বলেন, খালটি যথানিয়মে খনন হয়েছে বলেই সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও পিআইও জানিয়েছেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে নেই। ইতিপূর্বে একটি মনিটরিং টিমের মাধ্যমে খনন কার্যক্রম যাচাই করে সঠিক তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। খনন কার্যক্রম শেষ হওয়ায় পুনরায় কাজের সঠিকতা যাচাই করেই বিল পরিশোধ করা হবে।