ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

সবুজবাগে বিএনপিকর্মী হত্যা

মারধরের শিকার হয়ে প্রতিশোধ নিতেই হামলা করেন খুনি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:০৮ এএম

রাজধানীর সবুজবাগে ইব্রাহিম পলাশ (৩৬) নামে ওয়ার্ড বিএনপির এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সবুজবাগের রাজারবাগ বাজার পানির পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম পলাশের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। তিনি রাজধানীর সবুজবাগ থানার ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবার নাম আবুল বাশার। এদিকে হত্যাকা-ের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও খুনিরা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

নিহতের প্রতিবেশী হীরা জানান, পলাশ পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার রয়েল, সবুজ, নাঈমসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল জানান, নিহত ইব্রাহিম পলাশ সুবজ নামে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা পেতেন। ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাকে মারধর করেন। সেই বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে মূল আসামি সবুজ অন্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে পলাশের হাতের কবজি কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পলাশের মৃত্যু হয়। আসামিরা শনাক্ত হলেও গতকাল রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এর আগে মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে। হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি তখন আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে স্থানীয় একটি গ্যারেজ থেকে একটি রিকশা চুরির ঘটনা ঘটে। ওই রিকশা উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে পলাশের সঙ্গে অভিযুক্ত সবুজের বাগবিত-া হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।