× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

বিচারের কাঠগড়া না আইনি সুরক্ষা 

ফারুক আহমেদ শাহেদ 

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন স্থানে জমা পড়েছে একাধিক অভিযোগ। তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে নিজের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন সাহাবুদ্দিন। এ বিষয়ে সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে দেখা দিয়েছে অসামঞ্জস্য। আইনমন্ত্রী অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা বললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা আমলে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে প্রশ্ন ওঠেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য কী অপেক্ষা করছে- বিচারের কাঠগড়া, না আইনি সুরক্ষা। যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, পদ ছাড়ার পর আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই।

এদিকে পিলখানা থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশে ‘গণহত্যা, গুম ও খুনের’ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ভার বা ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’র অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’ নামের দুটি সংগঠন। বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দুটি দাখিল করেন।

অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে- এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ‘কোনো অভিযোগ এলে আমরা তা গ্রহণ করে রেজিস্টারভুক্ত করি। তারপর তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠাই। তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে এটি তদন্ত করার মতো, তখন তারা একটি অভিযোগ রেজিস্টারভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।’

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইনকিলাব মঞ্চসহ কয়েকটি দল ও সংগঠন তার বিচারের জোর দাবি তুলেছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির একটি নেগোসিয়েশন হয়েছে, তারা চুপ্পুকে সেইফ এক্সিট দিতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই বলছেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাবেক প্রেসিডেন্ট চুপ্পুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু এটি ভুল কনসেপ্ট। যত দিন তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তত দিন ৫১ অনুচ্ছেদ তার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু এখন তিনি রাষ্ট্রপতি নন, তাই তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এরশাদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার মাত্র ছয় দিন পর তাকে জেলে নেওয়া হয়েছিল।’

তবে পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘কীসের বিচার করবে? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধী নই। আমি মাথা উঁচু করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট সংকট আমি সামলেছি।’ পদত্যাগে কোনো চাপ ছিল না বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া চিকিৎসার বিষয়ে বলেন, ‘দেশে অথবা বিদেশে ভালো চিকিৎসা নেওয়া।’ শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১০-১২ দিনের মধ্যে তিনি বিদেশে যেতে পারেন বলেও জানান।

সংবিধান যা বলছে

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা অনুরূপ বিবেচনায় কোনো কাজ করলে বা কোনো কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকলে, সেটির জন্য কোনো আদালতে তার জবাবদিহি থাকবে না। তবে এই সুরক্ষা সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫১(১) অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল রাষ্ট্রপতির পদে থাকাকালীন নয়, বরং দায়িত্ব পালনকালীন করা কাজের জন্য পদ ছাড়ার পরেও বলবৎ থাকে।

সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন আলাদা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আসীন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাবে না। একই সঙ্গে তার গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য কোনো পরোয়ানা জারি করা নিষিদ্ধ। যেহেতু সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন, তাই এই সুরক্ষা তার ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়। আইনজ্ঞরা আরও বলছেন, ৫১ অনুচ্ছেদ সব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরের কাজ, দুর্নীতি, ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে দাপ্তরিক সীমার বাইরের কাজের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘৫১ অনুচ্ছেদ সব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরের কাজ, দুর্নীতি, ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে দাপ্তরিক সীমার বাইরে থাকা কাজের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগের অপরাধের বিচার করতে কোনো বাধা দেখছেন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু পদে থাকার আগে এবং পরে সংঘটিত কোনো অপরাধের কথা উল্লেখ নেই।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার বিচার চাওয়া হচ্ছে। যখন সাহাবুদ্দিন অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন, তখন আনা হলো না কেন?’

দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে অসামঞ্জস্য

এদিকে এ বিষয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে অমিল দেখা দিয়েছে। যাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, আইনের বলয়ে সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, জনগণের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে চায় না, তবে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার বা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোও গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নির্ধারিত নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান বলেছেন, ‘নাহিদ ইসলামরা যদি সংবিধান মেনে সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ না নিয়ে বিপ্লবী সরকার গঠন করত, সে ক্ষেত্রে দায়মুক্তির প্রসঙ্গ আসত না। এবং সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকত। কিন্তু সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে তাকে একপ্রকার ক্ষমা করে দিয়ে নতুনভাবে বৈধতা দিয়েছিল নাহিদ ইসলামদের পরামর্শে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।’

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করা উচিত কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারকে রক্ষার চেষ্টা, ব্যাংক খাতের লুটপাট ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে পাঁচ বছর মেয়াদে শপথ নিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ শেষের প্রায় দুই বছর আগেই গত শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও অটোনমিক নিউরোপ্যাথির মতো অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন।

Link copied!