বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি পর্তুগাল। ইউরোপীয় ফুটবলে তাদের আধিপত্য, অসংখ্য বিশ্বমানের ফুটবলার এবং ধারাবাহিক সাফল্য থাকলেও ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি এখনো তাদের অধরাই রয়ে গেছে। কয়েক দশক ধরে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি দলটি। তাই বিশ্বকাপ পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে এখনো এক অপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল পর্তুগালের জন্য এক ঐতিহাসিক আসর। কিংবদন্তি ইউজেবিওর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বড় সাফল্য অর্জন করে। সে আসরে ইউজেবিও সর্বোচ্চ ৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন এবং পর্তুগাল তৃতীয় স্থান অর্জন করে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলেও সেই বিশ্বকাপ পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি পর্তুগাল। তবে ২০০০-এর দশকে লুইস ফিগো, রুই কস্তা, ডেকো এবং পরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের হাত ধরে দলটি আবার বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগাল দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয়। লুইজ ফেলিপে স্কোলারির অধীনে দলটি সেমিফাইনালে পৌঁছায়। কিন্তু স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থান নিয়ে আসর শেষ করে। এটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় সেরা সাফল্য।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এবং ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব বড় শিরোপা জিতেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ প্রতিটি বিশ্বকাপেই পর্তুগালকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ধরা হলেও তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
বিশ্বকাপ না জিতলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। এরপর ২০১৯ সালে প্রথম উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়ে। ২০২৫ সালেও তারা আবার নেশনস লিগ জিতে ইউরোপের অন্যতম সফল দলে পরিণত হয়। পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে ইউজেবিও, লুইস ফিগো, রুই কস্তা, পাওলেতা, ডেকো, পেপে, নানি, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো অসংখ্য বিশ্বমানের ফুটবলারের অবদান রয়েছে। তাদের হাত ধরে পর্তুগাল বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ফুটবল জাতিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল পর্তুগাল। গ্রুপ পর্ব সফলভাবে পেরিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ তারা ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-এ ওঠে। তবে শেষ ১৬-এ স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।
এটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। তাই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় সমর্থকদের হতাশা আরও বেড়ে যায়। ফলে ২০২৬ সালেও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অপেক্ষা শেষ হলো না পর্তুগালের।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন