ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশজুড়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় হাসপাতালে বসছে ‘পাগলা ঘণ্টা’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৩:০৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম বা ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) অনুদান হিসেবে পাওয়া ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘কোড ব্লু’ বা ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাখালী এলাকায় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে আলাদা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশের ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ ইউনিটের জন্য একটি করে শিশু ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব ইউনিট উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার। ঈদের ছুটিতে চিকিৎসাসেবায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ নির্দেশনা :

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ১৮ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটির সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনাগুলো হলোÑ জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত চিকিৎসক : হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; সার্বক্ষণিক ল্যাব ও স্ক্যান সেবা : জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি, ল্যাব, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে; পর্যায়ক্রমে ছুটি : কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে; জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি : প্রতিষ্ঠানপ্রধাঈনরা নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন; জেলাভিত্তিক জনবল সমন্বয় : সিভিল সার্জনেরা বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে শুধু ঈদের ছুটিকালীন নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে পারবেন; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবা : হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ইউনিট প্রধানেরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের খবরটি সঠিক নয়Ñ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর : পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের যে খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে চিঠিকে ভিত্তি করে এই খবর প্রচার করা হয়েছে, সেটি আসলে গত ঈদুল ফিতরের সময়ের পুরোনো একটি নথি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন করে কোনো ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ঈদুল আজহা সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশজুড়ে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে। সংবাদগুলোতে বলা হয়, শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাবের কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত চিঠিটি নতুন নয়। এটি গত ঈদুল ফিতরের সময়ের একটি পুরোনো নির্দেশনা, যা ভুলভাবে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোনো নতুন ছুটি বাতিলের নির্দেশনা জারি করা হয়নি। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণত জরুরি সেবার কারণে অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো পূর্ণাঙ্গ ছুটি পান না। তবে নতুন করে সব ধরনের ছুটি বাতিলের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পরিচালকের (প্রশাসন) নামে কোনো নতুন নোটিশ জারি হয়নি; বরং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ছুটি বাতিলের কোনো উল্লেখ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো একটি অফিস আদেশকে নতুন সময়ের দাবি করে প্রচার করায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য খাতে নতুন সংকট বা জরুরি অবস্থার একটি ধারণা তৈরি হয়, যার বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই।