বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর দরগার দিঘির সেই কুমিরটি অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সেটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিন সকাল থেকেই বন বিভাগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মিললে শুরু হয় ধরার কার্যক্রম। দুপুর ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে কুমিরটি বেঁধে ফেলা হয়। পরে সেটিকে খুলনায় নিয়ে যায় বন বিভাগ।
গত সোমবার রাতে কুমিরটির আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এরপরই গত মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে এক জরুরি সভায় কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিঘির পাড়ের বাসিন্দা কুলসুম বেগম জানান, খান জাহানের আমলের কুমির শান্ত থাকলেও এই কুমিরটিকে নিয়ে তারা অনেক ভয়ে ছিলেন এবং আতঙ্কে দিঘিতে নামতে পারতেন না।
উদ্ধার অভিযান শেষে কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির বলেন, আমরা ভালোভাবে কুমিরটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের এই মাদি কুমিরটিকে এখন খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের দিঘির কুমিরটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী এটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। কুমিরটির বিষয়ে পরবর্তী করণীয় আলোচনা সাপেক্ষে জানানো হবে।

