ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নতুন পে-স্কেল কার্যকর নিয়ে শঙ্কায় সরকারি চাকরিজীবীরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৬:০৩ এএম

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘনিয়ে আসায় বহুল প্রত্যাশিত এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা। চাকরিজীবীদের অভিযোগ, পে-স্কেল সংক্রান্ত যেসব তথ্য এখন পর্যন্ত সামনে এসেছে, তার বেশির ভাগই গণমাধ্যমনির্ভর। এ বিষয়ে সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমনকি পে-কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছেÑ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না? পাশাপাশি এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও আর্থিক প্রভাব নিয়েও রয়েছে নানা জিজ্ঞাসা ও সংশয়।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে, সরকার তো কিছু বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কিছুই দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয় বা অর্থসচিব দেন বা আগে যারা যেভাবে দিয়েছিলেন, সেভাবে কিন্তু স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আমরা আজও পাইনি।

আবদুল মালেকের মতে, এ কারণেই কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে, আসলেই কি পে-স্কেল হচ্ছে? তিনি আরও বলেন, ১১ বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করেছিলাম এই পে-স্কেলটার জন্য এবং আমাদের যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনিও তার নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় এলে তারা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবেন। আগামী ১১ জুন এ সরকারের প্রথম বাজেট। আমরা জানি, এবার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজেটে আমাদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কতটুকু থাকবে বা কতটুকু থাকবে নাÑ এটা নিয়ে আমরা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমরা আশা করি, এ বাজেটেই আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে এবং কর্মচারীদের এতদিনের যে আশা-প্রত্যাশা সেটা পূরণ হবে।

এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তারা। গত রোববার সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনে মৌলিক পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য লজ্জাজনক।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, টিভি চ্যানেল জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মতামত তুলে ধরছেন তারা। অতীতের সব পে-স্কেল প্রদানের পূর্বে ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতার প্রচলন ছিল এবং দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ার সঙ্গে এটি সমন্বয় করা হতো। প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন হতো, দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নতুন পে-স্কেল একবারে নয়, বরং তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক বেতন কার্যকর করা হবে। এ ছাড়া ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে ওইদিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেদিনই নতুন পে-স্কেলের জন্য সম্ভাব্য বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।