ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

সিপিডি

এলএনজিকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৪২ এএম

নবায়নযোগ্য জ¦ালানির সমপরিমাণ শুল্ক-কর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর আরোপ করা হলে সরকার প্রতি বছর ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব পেত। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির তুলনায় জীবাশ্ম জ¦ালানিকে এভাবে শুল্ক ছাড়ে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার কারণে রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

গতকাল রোববার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘ফসিল ফুয়েল এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানির মধ্যে বিদ্যমান রাজস্ব বৈষম্য : জ¦ালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এ কথা বলেন।

এ সময় গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এনবিআর বর্তমানে আমদানি করা এলএনজিকে বাজারে কৃত্রিমভাবে সস্তা ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে। এর ফলে এলএনজির ওপর মোট করের হার মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের (সোলার) সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুতের ওপর এই হার ২৯ শতাংশ। এলএনজি আমদানিতে যদি সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর বা টিটিআই আরোপ করা হতো, তাহলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ১ হাজার ২৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একইভাবে যদি বায়ুবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হতো, তাহলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আসত ১ হাজার ৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ, জীবাশ্ম জ¦ালানিকে এই অন্যায্য সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

অন্যদিকে কয়লা আমদানির ওপর যদি পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হতো, তাহলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় আসত ৬৬৩ কোটি ৬১ কোটি টাকা। সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করলে তেল খাত থেকে আয়ের পরিবর্তে সরকারের রাজস্ব উল্টো ৪ হাজার ৯৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কমে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে টেকসই জ¦ালানি রূপান্তরের বড় বাধা হলো এই শুল্ক-কর বৈষম্য। একদিকে এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট শূন্য এবং অগ্রিম আয়কর মাত্র ২ শতাংশ, অন্যদিকে সোলার প্যানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৫ শতাংশ এআইটি চাপিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি বিনিয়োগকারীদের কাছে কৃত্রিমভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। রাজস্বের এই ক্ষতি ও বৈষম্য দূর করতে সিপিডির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে এলএনজি আমদানির ওপর বিদ্যমান শূন্য ভ্যাট-সুবিধা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে অন্যান্য সাধারণ জ¦ালানির মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্বিন্যাস করা, সোলার ও উইন্ড সরঞ্জামের ওপর থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর বাতিল করা এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি, স্মার্ট গ্রিড ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘সবুজ ভর্তুকি’ ও অনুদান বরাদ্দ করা। বর্তমান কর ও বাজেট-কাঠামো এমনভাবে তৈরি হয়েছে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ¦ালানিকে পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানির পথ বাধাগ্রস্ত করছে। এই বৈষম্য দূর করতে কয়লা ও এলএনজির শুল্কসুবিধা যৌক্তিকীকরণ এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানায় সিপিডি।