ঢাকার রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মারা গেলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ (৫৫)। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কয়েক দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। গতকাল শনিবার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, পলাশের বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে। আমরা তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
গত ১২ জুন দুপুর পৌনে ২টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের উল্টো দিকে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় জিসান আহমেদ মন্টি নামে একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হয়েছে এজাহারে। এ ছাড়া বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীবের নাম রয়েছে আসামি তালিকায়। নাম না-জানা সাত-আটজনকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে মাহমুদা খানম বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশ ও সহায়তায় এক অস্ত্রধারী তার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। এরপর শনিবার ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে ইমাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ বলেছিল, পলাশকে গুলি ছোড়া ব্যক্তি যে বাইকে পালিয়ে যান, সেটির চালক ছিলেন ইমাম। সোমবার ফেরদৌস নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। ঘটনার দিন ফেরদৌস ঘটনাস্থল ও আশপাশে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেছিল পুলিশ।
পুলিশ ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত নাম ছিলেন। ২০০২ সালে যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আসামি ছিলেন। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলার শিকার হন তিনি।

