অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া নিয়ে ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো ‘দ্রুত’ সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন দীনেশ ত্রিবেদী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করতে গিয়ে এ আশার কথা শোনান ঢাকায় ভারতের নতুন এই হাইকমিশনার। এদিন ঢাকা মিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন রাজনীতিক থেকে কূটনীতিক বনে যাওয়া ত্রিবেদী। এদিকে প্রায় দুই বছর পর আবার বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিচয়পত্র পেশের পর সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে হাইকমিশনারের সৌজন্য বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগের ঢপর রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত সমস্যা সম্পর্কে হাইকমিশনার বলেন, সম্প্রতি বিএসএফ ও বিজিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থানীয় ও উচ্চপর্যায়ে এ ধরনের বৈঠক আরও নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সীমান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের কথা ‘কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন’।
রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে সরওয়ার আলম বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণ সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দময় সম্পর্ক বিদ্যমান, আর এটাই স্বাভাবিক।’ দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাষ্ট্রপতির ও নেতৃত্বের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে সরওয়ার আলম জানান।
রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি শুভেচ্ছা জানান। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তার সফল মেয়াদ কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সৌহার্দপূর্ণ ও সুসংহত করতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে বঙ্গভবনের তরফে বলা হয়।
রোববার থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে : হাইকমিশনার : প্রায় দুই বছর পর আবার বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আগামী রোববার (২৮ জুন) থেকে এই ভিসা-সেবা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর যমুনায় ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে হাইকমিশনার এ তথ্য জানান।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি সোজা এসেই রাষ্ট্রপতির কাছে আমার পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) পেশ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। আমি রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। আজ আমি অত্যন্ত গর্বিত যে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে আজ থেকে আমার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন বর্ডারে আপনাদের মুখোমুখি হয়েছি, ওই সময় প্রথম প্রশ্ন আমাকে করা হয়েছিল, ভিসার কী হবে? ওই জিনিসটা আমার মাথায় ছিল যে, ভিসা সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট কেন মানুষের জন্য। আরও ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে মেডিকেল। তাই এ জন্য আজকে প্রথমে আমি পুরোটা ঘুরে দেখলাম।
খুবই ভালো লাগল যে অনেকের সঙ্গে আমার একটা আলোচনা হলো, ওদের কী সমস্যা আছে। অনেক বাচ্চাও এসেছিল। আমি খুবই খুশি যে ওদের সঙ্গে একটা ভালো ডিসকাশন হলো, ওরা অনেক সাজেশন দিল। ওই সাজেশনগুলো আমাদের অফিসারকে বললাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বাচ্চা আসে, বাচ্চার জন্য একটা আলাদা ঘর দরকার। আলাদা ঘর যেখানে বাচ্চাদের জন্য খেলনা, বাচ্চাদের জন্য কিছু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। একটু যদি ওয়েট করতে হয়, বাচ্চাদের অনেক সমস্যা হয়। যারা হুইলচেয়ারে আছে, ওদের জন্য র্যাম্পের দরকার হয়।’
হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি মোটামুটি অনেক খুশি যে, আমি ফ্যাসিলিটিটা দেখলাম, সত্যি আমার ভালো লাগল। আমাদের অনেক ফ্যাসিলিটি, যা প্রাইভেট সেক্টরে আছে কলকাতায়, ওই সব থেকে এখানটায় খুবই ভালো। কিন্তু সব জিনিসে একটা ইমপ্রুভমেন্ট করাই যায়। তাহলে আজকে আমি যা বললাম, যে নরমাল ট্যুরিস্ট ভিসা, ওই ট্যুরিস্ট ভিসা ওপেন, যে নরমালসি আছে ওইটা করে দিলাম আর ওইটা শুরু হবে ২৮ জুন থেকে। ওই নরমাল ভিসা অপারেশন যাকে বলে ফর ট্যুরিস্ট ভিসা। মেডিকেল ভিসা তো ইমার্জেন্সিতে আগেই সাবমিট হতো, ওইটা চলবে। এখনই পাঁচ জায়গায় আমি নামটা পড়ে দিলাম পাঁচ সেন্টারে হবে। কিন্তু আস্তে আস্তে সেন্টারগুলো বাড়াব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকেও এটা প্রথম জিনিস, যা করলাম হাইকমিশনার হিসেবে। এর আগে তো আমি করতে পারতাম না, প্রথম জিনিসটা এইটা করলাম, আমি অনেক খুশি। আর আশা করি যে এখানকার সাধারণ মানুষও খুশি হবেন। আর মাঝে মাঝে আমি এখানে আসব, পরিদর্শন করব, লোকেদের কথা শুনব, ওদের যা সাজেশন হবে, সেটা শুনব। আপনারা তো সাংবাদিক, আপনাদের যদি সাজেশন থাকে, সেই সাজেশন আমি শুনব।’

