× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

ডিজিটাল রূপান্তরে নতুন উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

মো. গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

ডিজিটাল রূপান্তরে নতুন  উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম দ্রুত বদলে যাচ্ছে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বন্দরে। দেশের সমুদ্রবাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারে নোঙর করা জাহাজ শুধু পণ্যই নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাও নিয়ে আসছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, অটোমেশন, নিরাপত্তা জোরদার ও অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দরটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে বন্দরের সব গেটে শতভাগ ই-গেট পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ই-ডেলিভারি অর্ডার (ই-ডিও), অনলাইন এনওসি, ই-চালান, কার্ট টিকিট এবং ওয়ান-স্টপ ডকুমেন্টেশনসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এসকুডা ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মধ্যে সরাসরি তথ্য বিনিময় চালু হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরো দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে।

এ ছাড়া ‘সিপিএ স্কাই’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে কাস্টমস, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। বন্দরের তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থাও চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের অন্যতম বড় অর্জন জাহাজের অবস্থানকাল বা টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। পাঁচ বছর আগে যেখানে একটি জাহাজ বন্দরে গড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় অবস্থান করত, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ২ দশমিক ৫৮ দিনে নেমে আসে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরো কমে প্রায় ২ দশমিক ৩৮ দিনে দাঁড়িয়েছে।

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাঁচ বছর আগে বছরে প্রায় ৩১ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। একই সময়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৬টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। সরকারকে কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৯৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা। কর-পরবর্তী রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা বন্দরের আর্থিক সক্ষমতার নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বন্দরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে দুটি নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন, তিনটি আরটিজি ক্রেন, ১৫টি স্ট্র্যাডল ক্যারিয়ার সংযোজন করা হয়েছে। আরটিজি ক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেনও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসারে চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে বন্দরটি ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে পাঁচটি ফোম ফায়ার ফাইটিং টেন্ডার, একটি রেসকিউ ভেহিকল ও একটি রিকভারি ভেহিকল সংযুক্ত করা হয়েছে। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফায়ার স্প্রিংকলার ও হাইড্রেন্ট ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের সামগ্রিক সেবার মানোন্নয়নে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে গ্রাহকদের জন্য সময়, খরচ ও যাতায়াত ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর মূলত মেরিন সার্ভিস এবং কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংÑ এই দুটি বড় ক্ষেত্রে সেবা দিয়ে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে একাধিক কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার বাস্তবায়ন চলমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল বন্দরব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করবে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!