শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৫, ০৬:৪৫ এএম

উধাও ভারতীয় ঠিকাদার কাজ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৫, ০৬:৪৫ এএম

উধাও ভারতীয় ঠিকাদার কাজ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা

ময়মনসিংহবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প হাইটেক আইটি পার্ক। হাজার তরুণ-তরুণীর স্বপ্নপূরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এই আইটি পার্কÑ এমনই প্রত্যাশা ছিল স্থানীয়দের। সে লক্ষ্যে কাজও চলছিল পুরোদমে। তবে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যায় হাইটেক আইটি পার্কের কাজ। কারণ, সরকার বদলের পর নিজ দেশে পালিয়ে যায় ভারতীয় ঠিকাদার। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাত মাস পর কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন অজুহাতে কাজ চলছে ধীর গতিতে। কাজে গতি ফিরিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি ময়মনসিংহবাসীর।

বহুল প্রত্যাশিত এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে তিন হাজার মানুষের। প্রতি বছর বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে এক হাজার তরুণ-তরুণী। 

২০২২ সালের জুন মাসে ময়মনসিংহ নগরের কিসমত এলাকায় ছয় দশমিক এক একর জমিতে হাইটেক পার্কের নির্মাণকাজ শুরু করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রু (এলঅ্যান্ডটি) এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভয়েন্টস সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড। সাত তলাবিশিষ্ট প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১৫৩ কোটি টাকা। প্রতি তলায় জায়গা থাকবে ১৫ হাজার বর্গফুট। 

এর আগে ২০১৭ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুনে। পরে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। ২০২৫ সালের জুনেও কাজ শেষ করতে না পেরে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। কাজ শেষ হয়েছে ৫৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোদমে কাজ করার সুযোগ পেলে সম্পন্ন হতে সময় লাগবে আরও এক বছর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাত তলাবিশিষ্ট বিশাল পার্ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৫০-৬০ জন শ্রমিক। যেখানে আড়াইশ থেকে তিনশ শ্রমিক কাজ করার কথা ছিল। রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ভারী নির্মাণ সামগ্রী।

গত ৩০ জুন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভয়েন্টস সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড কাজ ফেলে ভারতে চলে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, পূর্বের ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না করা হলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।

কিসমতপুর এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এখানে আমাদের আবেগ জড়িয়ে আছে। প্রকল্প শুরুর দিকে জায়গা-জমি নিয়ে কিছুটা সমস্যা হলেও আমরা আগ্রহভরে জমি দিয়েছি। প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে কর্মযজ্ঞ শুরু হবে সেটাই চাচ্ছি।

আনন্দ মোহন কলেজের মাস্টার্সপড়ুয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে চাকরি পাওয়া কঠিন। আইটি পার্কের কাজ শেষ হলে সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবন সাজাতে চাই। আমার মতো অনেক তরুণের স্বপ্ন হাইটেক পার্ক। কোনো কারণে যেন কাজের গতি না হারায়, সরকারকে সেদিকে বিশেষ নজর রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রকল্পটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) মোস্তাক আহমেদ বলেন, সরকার পরিবর্তন হলে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে কাজ ফেলে চলে যায় ভারতে। তখন প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরিবেশ-পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার কাজ শুরু হয়। তবে সেটা অনেকটাই সীমিত পরিসরে। যেখানে ৩০০ শ্রমিক কাজ করত সেখানে করছে ৫০-৬০ জন। এখন নতুন করে উদ্বেগের কারণ হলো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চলে যাওয়া। তবে আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারলে এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে পড়বে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটির প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, এই প্রকল্পটিতে আমি নতুন যোগদান করেছি। সবকিছু বুঝতেও একটু সময় লাগছে। কাজ ধাপে ধাপে শুরু করা হচ্ছে। পুরোদমে শুরু করতে পারলে এক বছরের মধ্যে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে পারব।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল মুমিন খান বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভারতে চলে যাওয়ায় কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। কাজটি পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন করতে আরও এক বছর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা কাজে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আশা করছি, দুয়েক মাসের মধ্যে চলেও আসবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!