নওগাঁর ধামইরহাটে পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনেই তৈরি হয়েছে ময়লার বিশাল স্তূপ। দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের আবর্জনা সেখানে ফেলা হওয়ায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
উপজেলা সদরের টিএন্ডটি মোড়ে অবস্থিত ধামইরহাট পৌরসভার অস্থায়ী অফিস ভবন থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে জয়পুরহাট-নজিপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে এই ময়লার স্তূপ ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড থেকে সংগৃহীত ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে দিন দিন বড় হচ্ছে ময়লার স্তূপ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ ও সৌন্দর্যের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পৌর অফিসের সামনে থাকা সড়কটি এলাকায় চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু ময়লার স্তূপের কারণে প্রায়ই পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দুর্গন্ধের পাশাপাশি অনেক সময় ময়লার স্তূপে আগুন লাগার ঘটনায় বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ‘পৌর অফিসের সামনে থাকা ময়লার বিশাল স্তূপে দিনে দিনে দুর্গন্ধ বাড়ছে। রাস্তা ব্যবহার করতে গেলে পথচারীদের প্রায়ই অসুবিধা হয়। কখনো দুর্গন্ধ, কখনো আবার আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে যায়।’
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এই ময়লার স্তূপ দৃষ্টিকটু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো এলাকা নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত এটি অন্য স্থানে সরিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, ‘ময়লার স্তূপ থেকে আসা দুর্গন্ধ ও ধোঁয়া প্রায়ই পৌর অফিসের ভেতরে চলে আসে। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।’
খোদ পৌর অফিসের সামনে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নিতে পারছেন না সচেতন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত ময়লার স্তূপটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং পৌর এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, খুব দ্রুত ময়লার এই ভাগাড় অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পৌর এলাকায় স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য শামসুজ্জোহা খানের সময় ধামইরহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী চপল। পরে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রহমান নির্বাচিত মেয়র হিসেবে প্রায় ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। গত জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভা পরিচালিত হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন